সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকদের মধ্যকার বৈঠক সম্পন্ন হওয়ার পর দুই পক্ষকেই একটি ইতিবাচক ফলাফলের লক্ষ্যে একই অভিমুখে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে চীন।
সোমবার (২২ জুন) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সাংবাদিকদের জানান যে বেইজিং আন্তরিকভাবে আশা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনার এই বর্তমান ধারাটি বজায় রাখবে এবং চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য একযোগে ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হবে।
সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্ন শীর্ষ সম্মেলন শেষে প্রথম দফার উচ্চপর্যায়ের সংলাপ থেকে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির যৌথ ঘোষণা আসার পরপরই বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হলো।
মধ্যস্থতাকারী দুই এশীয় দেশ পাকিস্তান ও কাতারের দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল যে লেক লুসার্ন সম্মেলনটি অত্যন্ত ইতিবাচক এবং গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলমান এই শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিতে এবং ভবিষ্যতের খুঁটিনাটি শর্তগুলো চূড়ান্ত করতে দুই দেশের কারিগরি বা টেকনিক্যাল পর্যায়ভুক্ত দলগুলোর জন্য একটি বিশেষ কার্যপ্রণালী বা মেকানিজম তৈরি করাসহ বেশ কিছু উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এই প্রসঙ্গে চীনা মুখপাত্র গুও জিয়াকুন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ‘চীন পাকিস্তান ও কাতারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের এই প্রশংসনীয় মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করে।’
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সরাসরি সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধি দলের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
দুই দেশের এই শীর্ষ নেতারা গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করার নানা উপায় ও কৌশল নিয়ে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা যাবত নিবিড় দ্বিপক্ষীয় আলোচনা পরিচালনা করেন।
আলোচনা শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি লেবানন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও কাতারের অক্লান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান যে যুক্তরাষ্ট্রর সঙ্গে হওয়া এই আলোচনার মাধ্যমে লেবানন সীমান্ত যুদ্ধ অবসানের পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতির ওপর থেকে আন্তর্জাতিক চাপ কমাতে তেল ও পেট্রোরাসায়নিক বা পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির আইনি ছাড় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
এর পাশাপাশি ইরানের ওপর থাকা নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, কিছু ফ্রিজ করা রাষ্ট্রীয় আর্থিক সম্পদ অবমুক্ত করা এবং দেশের জন্য একটি বড় ধরনের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা চালু করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় করা গেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি