গাজীপুরের শ্রীপুরে পুলিশের হাতে আটক হাজী মো. লোকমান হোসেন নামে এক ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মী সন্দেহে তাকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। দলটির স্থানীয় নেতারাও বলছেন, তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন।
তবে বিএনপির নেতাদের দাবি, তিনি বিএনপির পুরনো কর্মী। তাকে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ সোমবার (২২ জুন) সকালে লোকমানকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনূর আলম। এর আগে রোববার আওয়ামী লীগ কর্মী সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
পুলিশ জানায়, রোববার রাতে শ্রীপুরের নিজ বাসা থেকে লোকমানকে আটক করা হয়। এরপর তাকে নেওয়া হয় থানায়। তাকে আটকের বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বিএনপির উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটির নেতারা সোমবার সকালে থানায় গিয়ে লোকমানকে ছাড়িয়ে নেন। এসময় তাকে বিএনপির দলীয় কর্মী বলে দাবি করেন বিএনপির নেতারা।
এই ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রীপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনূর আলম বলেন,
আওয়ামী লীগ কর্মী সন্দেহে লোকমান নিজ বাসা থেকে আটক করা হয়। আমরা তাকে আনার পরে জানতে পারি, তিনি ৫ আগস্টের পর বর্তমান এমপি অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছিলেন।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে হাজী মো. লোকমান হোসেন বলেন, আমি আগে থেকেই বিএনপি করি। আমাকে একটি পক্ষ ফাঁসানোর চেষ্টা করছিল। আমি আগেও বিএনপি করতাম, এখনও বিএনপি করি। কে বা কারা এসব কাগজপত্র তৈরি করে আমাকে ফাঁসাতে চাচ্ছে, তা আমি জানি না।
শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব, সদস্যসচিব খায়রুল কবির মণ্ডল আজাদ, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সরকার এবং সদস্যসচিব বিলাল বেপারী জানান, হাজী মো. লোকমান হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ও নেতা। তাকে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে প্রচার করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিকভাবে তাকে এবং দলকে বিতর্কিত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তারা আরও দাবি করেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি জাল কাগজপত্র বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের রাজনীতি করে এবং দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না।
এদিকে লোকমানকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম মোল্লা তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন, ‘শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাজী লোকমান হোসেনকে বিনা অপরাধে পুলিশ দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
এই ঘটনায় লোকমানের পরিচয় জানতে চাইলে তাকে নিজেদের সংগঠনের কর্মী দাবি করেন আওয়ামী লীগ নেতা নূরে আলম মোল্লা।