মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার কমন বিষয়গুলোতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে সরকার বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, হিসাববিজ্ঞান, অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানসহ যেসব বিষয় মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষায় অভিন্ন, সেগুলোতে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সেখানে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

এছাড়া আগামীতে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড একযোগে একই প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ করবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জট কেটে যাবে এবং পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আরও ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করা হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন জটিলতা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী প্রকল্পগত দুর্বলতার কারণে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল, যা বর্তমানে সমাধানের পথে রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার শিক্ষার মানোন্নয়ন, সিলেবাস হালনাগাদ এবং শিক্ষাকে বৈষম্যহীন করার লক্ষ্যে কাজ করছে। শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. শাহজাহান এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।