কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, ইলিশসহ দেশীয় মাছ রক্ষায় অবৈধ জালের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (২১ জুন) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে (বিএআরসি) অনুষ্ঠিত ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জাটকা নিধন, মা ইলিশ আহরণ এবং কারেন্ট জালের ব্যবহার—এই তিনটি বিষয় নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এসব অবৈধ কার্যক্রম ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদনের জন্য বড় হুমকি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ইলিশকে শুধু স্থানীয় চাহিদা পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নদীর পরিবেশ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ইলিশের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজননের জন্য নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং পানির গুণগতমান নিশ্চিত করতে হবে। শিল্পবর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ নদীতে নিঃসরণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, অধিকাংশ জেলে এখনও দাদন-নির্ভর। তাই তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ইলিশসম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় গবেষক, বিশেষজ্ঞ, মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ উপদেষ্টা দল গঠনের বিষয়টি সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে হয়। তাই এই সম্পদ সংরক্ষণে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ ছাড়া ইলিশ সম্পদের সুরক্ষা সম্ভব নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলেদের জন্য প্রায় ২৪ কোটি টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কর্মশালায় মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।