জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান। জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “শোকর করেন যে অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন এখানে।”
সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, বাজেট অধিবেশনের বেশির ভাগ সময়ই অধিকাংশ মন্ত্রীকে সংসদে দেখা যায় না। সংসদ কক্ষে মন্ত্রীদের অনেক আসন ফাঁকা থাকার বিষয়টি স্পিকারের দৃষ্টিতে আনেন তিনি।
সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “দেখেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেক মন্ত্রী নেই। মন্ত্রীদের চেয়ারগুলো খালি। এ ব্যাপারে আপনার সহযোগিতা চাচ্ছি, মাননীয় স্পিকার।”
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও বেশি উপস্থিতি কাম্য।
তিনি বলেন, “শোকর করেন যে অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন এখানে। অন্যান্য মন্ত্রীদেরও সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানাবেন। বাজেট সেশন গুরুত্বপূর্ণ সেশন। তাঁরা থাকলে আমরা বাধিত হব।”
এরপর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকলেও মন্ত্রীদের সংসদে উপস্থিত থাকা উচিত।
তিনি বলেন, “অর্থমন্ত্রী শুরু থেকে এখানে উপস্থিত আছেন। বাজেট-সংক্রান্ত সব খাতের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত তিনিই বক্তব্য দেবেন।”
চিফ হুইপ আরও বলেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিয়মিত সংসদে উপস্থিত থাকেন। অন্য মন্ত্রীরাও উপস্থিত থাকেন উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যারা অনুপস্থিত থাকেন তারা ভবিষ্যতে সংসদে আরও বেশি সময় দেবেন।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরা হলেও বিরোধী দলের নেতা ও উপনেতাকেও সংসদে দেখা যায়নি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বলার আগে যদি নিজের দিকেও তাকাতেন, তাহলে দেখতেন বিরোধী দলের নেতা ও উপনেতা—দুজনের কেউই উপস্থিত নেই।”
তবে এ বক্তব্যের জবাবে স্পিকার বলেন, বিরোধী দলের নেতা না থাকলেও মন্ত্রীদের উপস্থিতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সংসদের সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে সবার উপস্থিতিই বাঞ্ছনীয়।