কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

রাজপথে রাজনৈতিক দল, সতর্কবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে পৃথকভাবে রাজপথে অবস্থান করবেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা।

অন্যদিকে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা দেয়নি বিএনপি।

দলটির সূত্র বলছে, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে থাকবেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যদি প্রকাশ্যে এসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সৃষ্টি করে বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবিসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

এদিকে অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির প্রতিবাদে দেশব্যাপী প্রতিবাদ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌর এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করবেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। 

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুবদলের শীর্ষ নেতাদের এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘শুধু সরকারের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, মাথাচাড়া দেওয়া ফ্যাসিবাদ রুখতে জুলাইয়ে ঐক্যবদ্ধ শক্তির সমন্বিত কর্মসূচি থাকা উচিত। ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে জুলাই জাগ্রত থাকুক।’

আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কর্তৃক সংঘটিত সব গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। এদিন বিকেল ৫টায় বিজয়নগরে এই সমাবেশ হবে। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কোনো দলের বিরুদ্ধে ১১ দলের কর্মসূচি নেই। যদি কেউ ঘোষণা দিয়ে কর্মকাণ্ড চালায়, সেটি দেখার দায়িত্ব সরকারের। সরকার যেন এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ করে। ফ্যাসিবাদের উত্থান সরকার ঠেকাতে না পারলে ১১ দল দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা রুখে দেবে।

আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কর্তৃক সংঘটিত সব গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে সারাদেশের সব জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও বেআইনি তৎপরতার আশঙ্কায় ঢাকা মহানগরীসহ দেশের তিনটি মহানগর ও তিন জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

২২ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা এক সরকারি চিঠিতে জানানো হয়েছে, মোতায়েন করা এই সেনাসদস্যরা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন। 

সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য নির্ধারিত এলাকাগুলো হলো—ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া মাফিয়া দল আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা সরকারের গোচরীভূত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় তারা মিছিল বা সমাবেশের মাধ্যমে জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘তারা যাতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য দেশের সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় ৬টি জেলায়—ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা এবং ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জে—আজ ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।’