১৬তম সোশ্যাল বিজনেস ডে: উদযাপিত হবে গ্রামীণের সুবর্ণজয়ন্তী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারের দুই দশক

ইউনূস সেন্টার এবং গ্রামীণ গ্রুপের আয়োজনে ১৬তম সোশ্যাল বিজনেস ডে আগামী ২৭ থেকে ২৮ জুন সাভারের জিরাবোতে অবস্থিত সামাজিক কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৯ জুন রাজধানীর মিরপুরে ইউনূস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে অ্যাকাডেমিয়া ডায়ালগ ও থ্রিজিরো ক্লাব কনভেনশন। এই আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্যোক্তা, বৈশ্বিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, উদ্ভাবক এবং তরুণ প্রজন্মের নেতৃবৃন্দ একত্রিত হবেন।

এ বছর সোশ্যাল বিজনেস ডে’র প্রতিপাদ্য হলো ‘সামাজিক ব্যবসা: একটি বিভক্ত বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার ভাষা’।

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে পাঁচটি প্লেনারি সেশন এবং সাতটি ব্রেক আউট সেশন অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা, উপস্থাপনা ও ফোরামে উঠে আসবে দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, জলবায়ু রক্ষা আন্দোলন, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং তরুণদের ক্ষমতায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। 

এ বছর সোশ্যাল বিজনেস ডে-তে বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় দেড় হাজার অংশগ্রহণকারী একত্রিত হবেন, যার মধ্যে প্রায় ২০০ জন আন্তর্জাতিক অতিথি ও প্রতিনিধি রয়েছেন। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন এবং অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে সমাপনী বক্তব্য রাখবেন।

ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ বলেন, ‘সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পরস্পরের অভিজ্ঞতা, মতামত ও সমাধান নিয়ে আলোচনার জন্য “সোশ্যাল বিজনেস ডে” একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এ বছর সামাজিক ব্যবসা কীভাবে অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে, বৈষম্য কমাতে এবং আরও টেকসই ও মানবিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে অবদান রাখতে পারে, সেসব বিষয়ে আলোচনা ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হবে।’

এবারের আয়োজনে উপস্থিত বক্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: এরিক সলহেইম, প্রেসিডেন্ট, ইউরোপ-এশিয়া সেন্টার এবং নরওয়ের সাবেক পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী; কিম রেকস্টেন গ্রোনেবার্গ, কমিউনিকেশনস ও মার্কেটিং ডিরেক্টর, নোবেল পিস সেন্টার; ড. ইসমাইল সেরাগ্লিন, বিবলিওথেকা আলেকজান্দ্রিনার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট (১৯৯২–২০০০); এলিসা ইয়াভচিৎজ, সদস্য, কাউন্সিল অব প্যারিস, ফ্রান্স; হুরিয়া বি. আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক, পলিসি হাব, কাতার ফাউন্ডেশন; মাসাহিরো হাশিমোতো, মেয়র, সাকাই টাউন, জাপান; কেট রবার্টসন, সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ওয়ান ইয়াং ওয়ার্ল্ড, ড. পর্নচাই মংখনভানিত, প্রেসিডেন্ট, সিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়, থাইল্যান্ড; প্রফেসর দাতো' ইর ড. মোহদ সালেহ জাফর, ভাইস চ্যান্সেলর ও প্রেসিডেন্ট, আলবুখারি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া এবং প্রফেসর জিউসেপে তোরলুচ্চিও, ব্যাংকিং ও ফিন্যান্সের অধ্যাপক, বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

দুদিনব্যাপী সেমিনারে বক্তা হিসেবে আরও উপস্থিত থাকবেন আশিক চৌধুরী, নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা); মো. ফজলুল কাদের, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ); ক্যারল গ্রিবনাউ, পরিচালক, ডাচ পোস্টকোড লটারি ফাউন্ডেশন (ডোয়েন ফাউন্ডেশন); লিডিয়া সিবার্স, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডাচ পোস্টকোড লটারি; ফিলিপ গিশান্দুত, মহাসচিব, গ্রামীণ ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল ফাউন্ডেশন; ড. এডজেল আলমানজা রামোস, প্রেসিডেন্ট ও সিইও, কার্ড-এমআরআই; ড. ডলোরেস এম. তোরেস, সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট অ্যাডভাইজার, কার্ড ব্যাংক, ইনক.; কোরাজন এ. হেনারেস, বোর্ড চেয়ারপার্সন, নেগ্রোস উইমেন ফর টুমরো ফাউন্ডেশন (এনডব্লিউটিএফ); সুজেট ডি. গ্যাস্টন, নির্বাহী পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট, নেগ্রোস উইমেন ফর টুমরো ফাউন্ডেশন (এনডব্লিউটিএফ); মিস লেসি হাবার্ড, প্রেসিডেন্ট ও সিইও, ইলেক্টা ফাউন্ডেশন; কেট ময়নিহান, নির্বাহী পরিচালক ও সিইও, সেভা ফাউন্ডেশন; জোসেফ হ্যাজেল, গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, অ্যাপেক্স হেলথ; ড. এমাদুল ইসলাম, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ওপিআরআই), দ্য সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন; এবং ফাদার ফ্রান্সেস্কো অচেত্তা, জেসুইট পাদ্রি, লেখক এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, ভ্যাটিকান/ইতালি।

গ্রামীণের ৫০ বছর এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারের ২০ বছর উদযাপন
২০২৬ সালে গ্রামীণ দুটি ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপন করছে—গ্রামীণ ব্যাংকের ৫০ বছর এবং প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের যৌথ নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তির ২০ বছর।
এটি এ বছর সোশ্যাল বিজনেস ডে উদযাপনে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। এই আয়োজনে গ্রামীণের অর্জনগুলো উদযাপনের পাশাপাশি এই দীর্ঘ পথচলায় হারানো সুযোগগুলো নিয়েও পর্যালোচনা হবে; অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী ধাপগুলো কীভাবে গড়ে তোলা যায় তা নিয়ে আলোচনা হবে। পরস্পরের সঙ্গে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এবারের সোশ্যাল বিজনেস ডে। মনোযোগ থাকবে তিন শূন্যের পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে।