অনলাইন জুয়া ও ফিক্সিং রুখতে সংসদে নতুন বিল, সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছর

সব ধরনের জুয়া, বেটিং ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধ কঠোরভাবে দমনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ডিজিটাল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জুয়া প্রতিরোধে যুগোপযোগী সাজার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ’ নামের এই বিলটি উত্থাপন করেন। মূলত ১৫৭ বছরের পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ বাতিল করে আধুনিক ও সময়োপযোগী এই আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিলটি যাচাই-বাছাই করে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে অনলাইন জুয়া, স্পট ফিক্সিং, বাজি বা পণসহ মোট ২৪টি বিষয়কে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ মাত্রার শাস্তির কথা বলা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাধারণ জুয়ায় জড়ালে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে এই সাজা বেড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এ ছাড়া অপরাধের মাত্রায় সবচেয়ে কঠোর সাজা রাখা হয়েছে অনলাইন বেটিংয়ের ক্ষেত্রে। কেউ এতে সম্পৃক্ত হলে তাকে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য অনূর্ধ্ব সাত বছরের জেল বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে বিলে।

বিলটি উত্থাপনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেড় শতাব্দীর পুরোনো আইনটি দিয়ে বর্তমান সময়ের ভার্চ্যুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি মোকাবিলা করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না। তা ছাড়া ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের সুবিধার্থে আইনটি যুগোপযোগী করার প্রস্তাব এসেছিল। সংবিধানেও জুয়া নিরোধে রাষ্ট্রের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ভিপিএন, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জুয়া ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি, জনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও তরুণ সমাজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর এসব অপরাধ ঠেকাতে এবং রাষ্ট্রের সার্বিক অর্থনৈতিক ও নৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই নতুন আইন প্রণয়ন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।