রক্তাক্ত বৃদ্ধকে গুম চেষ্টার অভিযোগে মাইক্রোবাস চালককে গণপিটুনি

নরসিংদী-ঘোড়াশাল সড়কে এক গুরুতর আহত রক্তাক্ত বৃদ্ধকে গুম করার চেষ্টার অভিযোগে মনির হোসেন নামে এক মাইক্রোবাস চালককে পিটুনি গিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, মৃত ভেবে রক্তাক্ত ওই বৃদ্ধকে গুমের চেষ্টা করছিলেন মনির। পরে হাসপাতালে ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। 

বুধবার (২৪ জুন) সকালে পলাশ উপজেলার ভাগদী এলাকা সংলগ্ন সড়কের এক নির্জন স্থানে এই ঘটনা ঘটে। গণপিটুনির পর ওই মাইক্রোবাস চালককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

আটক মাইক্রোবাস চালক মনির হোসেন বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চিরাপাড়া গ্রামের মৃত জলিল হাওলাদারের ছেলে বলে জানান তিনি।

উদ্ধার বৃদ্ধের নাম রিপন মিয়া (৫৫)। তিনি ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বাসিন্দা বলে পলাশ থানা পুলিশ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাগদী এলাকার সড়কের পাশে একটি মাইক্রোবাস থামিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত এক বৃদ্ধকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন মাইক্রোবাস চালক। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে এলে তারা চালককে হাতেনাতে আটক করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণধোলাই দেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে পলাশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালককে আটক করে এবং মুমূর্ষু বৃদ্ধকে উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক মনির হোসেন দাবি করেন, ঢাকার গাবতলী এলাকার একটি পাম্পের সামনে ৪/৫ জন লোক ওই বৃদ্ধকে মুমূর্ষু অবস্থায় গাড়িতে তুলে দেয়। তাদের কথায় তিনি বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়িতে তুলে নিয়ে আসেন। তবে পথে পুলিশের ঝামেলার আশঙ্কায় ভীত হয়ে তিনি নরসিংদীর ওই নির্জন স্থানে বৃদ্ধকে ফেলে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পলাশ থানার ওসি শাহেদ আল মামুন বলেন, বৃদ্ধকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত গাড়ি চালককে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে বলা যাবে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।