পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর ভাঙনের মুখে পড়া তৃণমূল কংগ্রেস এখন নিজের প্রতীক ‘জোড়া ঘাসফুল’ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে। দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া বিদ্রোহী নেতারা নতুন করে নেতৃত্ব ঘোষণা করার পর প্রতীকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার বিদ্রোহী নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপারসনের পদ থেকে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে হাওড়া মধ্যের বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়কে নতুন চেয়ারম্যান এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরও তিনজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠছে বিদ্রোহীরা কি দলের প্রতীক জোড়া ঘাসফুলের দখল নেওয়ার চেষ্টা করবে? মমতাপন্থীরা এই আট নেতাকে ইতিমধ্যে বেইমান বলে আখ্যা দিয়ে কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠিয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রতীক বাঁচানো কঠিন হতে পারে। কারণ বিদ্রোহীরা ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে নতুন কমিটির তথ্য জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর ফলে প্রতীকের মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিধানসভার পাশাপাশি লোকসভার তৃণমূল সাংসদদের মধ্যেও অসন্তোষ ছড়িয়েছে। কয়েকজন বিদ্রোহী সাংসদ ইতিমধ্যে এনসিপিআইতে (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া) যোগ দিলেও তারা তৃণমূলের ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের দাবি ছাড়ছেন না। গত ১৮ জুন অভিনেত্রী ও সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাড়িতে বৈঠক করে এ নিয়ে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জোড়া ঘাসফুল দলের প্রতীক হিসেবে গ্রাম-গঞ্জের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে। দলের গঠনতন্ত্রে এটিকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
তবে প্রতীকের নকশা নিয়ে অতীতেও বিতর্ক হয়েছে। চিত্রশিল্পী সোমনাথ চৌধুরী দাবি করেছেন, তিনিই এর আসল ডিজাইনার। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকেই এর স্রষ্টা বলে পরিচয় দিয়ে আসছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ সংকট যদি আরও গভীর হয়, তাহলে শুধু নেতৃত্ব নয়, তৃণমূলের এই ঐতিহাসিক প্রতীক নিয়েও বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।