সিপিডির জরিপ

পরিকল্পনাহীন সিস্টেম স্থাপন ও গ্রিড সম্প্রসারণে ৩০ লাখ সোলার অকেজো

মাঠপর্যায়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন ও গ্রিড সম্প্রসারণে বিগত দিনের ৬০ লাখ সোলার হোম সিস্টেমের অর্ধেক বা প্রায় ৩০ লাখ সিস্টেম সম্পূর্ণ অকেজো ও অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) পরিচালিত এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘পাকিস্তানে সৌর বিপ্লব: জাতীয় বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা' শীর্ষক এক সংলাপের আয়োজন করে সিপিডি। এতে সিপিডির গবেষণা সহকারী আতিকুজ্জামান সাজিদ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন । সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন ।

সিপিডির গবেষণা বলছে, ২০০৩ সালে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) হাত ধরে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় 'অফ-গ্রিড' বিদ্যুতায়নের এক বৈপ্লবিক যাত্রা শুরু হয়। বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকার মতো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অর্থায়নে এবং প্রায় ৩০টি সহযোগী এনজিওর মাধ্যমে এটি পরিচালিত হয়। ২০১৩ সালেই রেকর্ড ৮ লাখ ৫৩ হাজার সোলার হোম সিস্টেম ইনস্টল করা হয়। তবে, বিপর্যয়টি ঘটে এর ঠিক পরপরই। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কোনো ধরনের দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়াই দেশ জুড়ে জাতীয় গ্রিডের লাইন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হতে থাকে ।

সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম পাকিস্তানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, পাকিস্তানে স্বল্প সময়ে সৌরবিদ্যুতের বিস্তৃত ব্যবহার বিদ্যুৎ খাতের চিত্র বদলে দিয়েছে। বাংলাদেশও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আরো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে । সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর-সুবিধা দিয়েছে এবং সেচ পাম্পসহ বিভিন্ন খাতে সৌরশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানে জ্বলানি খাতে বিশেষ উদ্যোগের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ বাসিত ঘৌরি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুতের রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তবে উচ্চ কর, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত জটিলতা এ খাতের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি জানান, ২০২৫ অর্থবছরে পাকিস্তানে সৌর প্যানেল আমদানি ১৭ দশমিক ৯ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে, যা দেশটির গ্রিড সক্ষমতার চেয়েও বেশি। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২৮ থেকে ৩৮ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপিত হয়েছে, যার বড় অংশই বিতরণভিত্তিক ব্যবস্থায়। তার ভাষ্যে, বিদ্যুতের উচ্চমূল্য ও গ্রিড ব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতা পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুতের দ্রুত বিস্তারের প্রধান কারণ । পাশাপাশি চীনে উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে সৌর প্যানেলের দাম কমে যাওয়া এই খাতে ‘সোলার রাশ' তৈরি করেছে। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৭৩ লাখ পরিবার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যার বড় অংশই গ্রামীণ এলাকায় ৷