মার্কিন কারাগার থেকে দেশবাসীকে বার্তা পাঠালেন মাদুরো

যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল কারাগার বা বন্দিশালায় আটক থাকা ভেনিজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো নিজ দেশে ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্পের পর সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি জানিয়ে একটি বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধানের নিজস্ব দাপ্তরিক টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতির বরাতে ইন্ডিয়া ডট কম এই খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে দূর পরবাসের কারাগার থেকে পাঠানো ওই যৌথ বার্তায় নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস দে মাদুরো দেশের এই চরম দুর্যোগের সময়ে নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে, ‘আজকের বার্তা একটাই: সর্বোচ্চ ঐক্য, সর্বোচ্চ সংহতি এবং সর্বোচ্চ পদক্ষেপ।’ 

উল্লেখ্য যে চলতি ২০২৬ বছরের শুরুর দিকে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন থেকে মার্কিন বিশেষ সামরিক বাহিনী মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আকস্মিকভাবে আটক করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন এবং সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা চলছে।

কারাগার থেকে পাঠানো ওই বিশেষ টেলিগ্রাম বার্তায় সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান নিকোলাস মাদুরো দেশের বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ সামাজিক ও মানবিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন যে, ‘কেউ যেন একা না থাকে, প্রতিটি সম্প্রদায় যেন তাদের সন্তান, দাদা-দাদি, অসুস্থদের যত্ন নেয়।’ তিনি ভেনিজুয়েলার আপামর জনসাধারণকে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল, ফায়ার সার্ভিস এবং জরুরি চিকিৎসা কর্মীদের কাজে সর্বাত্মক সহায়তা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলার ওপর প্রকৃতির এই আকস্মিক আঘাত ও ধ্বংসলীলাকে একটি বড় জাতীয় সংকট হিসেবে আখ্যা দিয়ে মাদুরো বলেন যে, ‘ভেনেজুয়েলা আজ অনেক বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। আমরা বিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও সংহতির মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াব।’ তিনি বিশ্বাস করেন যে অতীতের মতো এবারও ভেনিজুয়েলার জনগণ সব বাধা পেরিয়ে নতুন করে নিজেদের গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

এদিকে ভেনিজুয়েলার বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো দেশের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানিয়েছেন যে এই জোড়া ভূমিকম্পের তীব্র আঘাতে দেশজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এবং সীমান্তবর্তী অনেক শহরের বহু বহুতল ভবন হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছে। তবে পুরো দেশে ঠিক কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং কত লোক গৃহহীন হয়েছেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত ও সঠিক তথ্য জানতে আরও বিস্তারিত মূল্যায়নের জন্য বর্তমান প্রশাসন অপেক্ষা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বা ইউএসজিএস-এর দেওয়া সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় সময় গত বুধবার রাত ১০টা ৪ মিনিটে কারাকাস শহর থেকে আনুমানিক ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে অবস্থিত সান ফেলিপ অঞ্চলের কাছে প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর ঠিক পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ইউমারে নামক এলাকার কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি অত্যন্ত বিধ্বংসী ও তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

মার্কিন ভূবিজ্ঞানীদের ওই সরকারি সংস্থা বা ইউএসজিএস আরও জানিয়েছে যে ভূমিকম্পের তীব্রতা ও গভীরতার কারণে লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও মারাত্মক পরিকাঠামোগত ক্ষতির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে সামগ্রিক মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও সংস্থাটি তাদের গাণিতিক মডেলে সতর্ক করেছে। তবে ভেনিজুয়েলার স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা নিখোঁজ হওয়া মানুষের সঠিক ও চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেনি।

সূত্র: ইন্ডিয়া ডট কম