স্বাস্থ্যখাতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্যখাতকে সম্পূর্ণভাবে জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সংসদে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। 

মন্ত্রী বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে দালালচক্র ও দুর্নীতি রোধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি স্তরে ডিজিটালাইজেশন জোরদার করা হয়েছে, যাতে সেবার মান বৃদ্ধি পায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ কমে। কেন্দ্রীয়ভাবে ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থার তদারকির জন্য ‘সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে সহজে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে টেলিমেডিসিন সেবার পরিধি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে রোগীদের হয়রানি কমেছে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ আরও সহজ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালগুলোতে রোগীদের মতামত গ্রহণ এবং সেবার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য শক্তিশালী তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা সেবাগত ব্যত্যয় ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর নজরদারির কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, অতিমুনাফালোভী চক্রকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। 

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্য কার্ড বা সমন্বিত স্বাস্থ্য ডাটাবেজ তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। এটি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে হয়রানি কমাতে এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।