দেশে নদী ১৪১৫টি, অবৈধ দখলদার ২১ হাজার ৯৮৮

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সংসদকে জানিয়েছেন, দেশে মোট নদ-নদীর সংখ্যা ১ হাজার ৪১৫টি। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন ও নদীকর্মীদের সহায়তায় প্রস্তুতকৃত তালিকা অনুযায়ী এই নদ-নদীর সংখ্যা নিরূপণ করা হয়েছে। দেশের নদ-নদীতে মোট অবৈধ দখলদারের সংখ্যা ২১ হাজার ৯৮৮। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তরে পৃথক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

ময়মনসিংহ-৬ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের এক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী জানান, নদীর এই তালিকাটি ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি জানান, নদীর স্বার্থরক্ষা এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন, ২০১৩’ সংশোধনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে নদ-নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, পৃথক নদী আদালত প্রতিষ্ঠা, নদী দখল সংশ্লিষ্ট অভিযোগের তদন্ত ও অনুসন্ধান, দূষণের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও আদায়, মামলা দায়ের এবং তা তদারকির বিধান রাখা হয়েছে। 

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম জানান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন কর্তৃক দেশের নদ-নদীর অবৈধ দখলদারের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে নদ-নদীতে মোট ২১ হাজার ৯৮৮ জন অবৈধ দখলদার রয়েছে। এই তালিকা যাচাই-বাছাই করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের কর্মপরিকল্পনা পাঠানোর জন্য সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) অনুরোধ জানানো হয়েছে। উচ্ছেদযোগ্য তালিকা পাওয়ার পর উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

জামালপুর-৩ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, নৌপথের নাব্যতা-সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে প্রতিবছর নিয়মিত সংরক্ষণ ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে নাব্য নৌপথের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ২০০ কিলোমিটার এবং বর্ষা মৌসুমে নাব্য নৌপথের দৈর্ঘ্য ৮ হাজার কিলোমিটার।

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী জানান, ব্যক্তি পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে যাত্রীবাহী লঞ্চবহরে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বড় আকারের লঞ্চ যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেক কমে এসেছে।