বিগত প্রায় তিন বছরে অর্থাৎ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের মোট ব্যয় প্রায় ২০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম জমান ইসরায়েল (দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের হিব্রু সংস্করণ) তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে সংঘাতগুলোর কারণে সরকারি অর্থব্যয়, উৎপাদন ক্ষতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ব্যাংক অব ইসরায়েলের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, যুদ্ধগুলোর কারণে ইসরায়েল সরকারের সরাসরি ব্যয় ১১৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
এর মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭১.২ বিলিয়ন ডলার। ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া হয়েছে ৯.৬ বিলিয়ন ডলার, বিভিন্ন বেসামরিক খাতে ব্যয় হয়েছে ১৬.৭ বিলিয়ন ডলার, আর সরকারি ঋণ বৃদ্ধির ফলে সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে যে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে, তার মূল্য প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার।
এতে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক চাপ শুধু সরকারি ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের অর্থনীতিতে উৎপাদন ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫১.৯ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হয়েছে।
অর্থনীতির ওপর নজিরবিহীন চাপ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিলে উৎপাদন ক্ষতির পরিমাণ ৫৮.৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সরকারি ব্যয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা এবং উৎপাদন ক্ষতি একসঙ্গে হিসাব করলে সংঘাতগুলোর মোট অর্থনৈতিক ব্যয় প্রায় ২০৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই হিসাবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ না পাওয়া ব্যক্তিগত ক্ষতি কিংবা বেসরকারি খাতের সব ধরনের লোকসান অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে এই অর্থনৈতিক বোঝা আরও বাড়তে পারে।
এছাড়া সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় করের হার বেড়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর প্রভাব বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর বেশি পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক সময় হিসেবে উল্লেখ করেছে। এতে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধগুলোর অর্থনৈতিক প্রভাব আগামী বহু বছর ধরে দেশটির ওপর বহাল থাকতে পারে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড