রাজশাহীতে অনলাইনভিত্তিক ‘ম্যাংগো লাভার’ অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাতে পবা উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড়ের এই ঘটনায় দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে প্রতিষ্ঠানের মালিক মুরাদ পারভেজ বলেন, ‘অনলাইনে আম বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করি। হামলাকারীরা তার প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।’ এ ঘটনায় সাবেক ছাত্রদল নেতা ও নওহাটা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ পারভেজ শুভর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তিনি। তবে মাসুদ পারভেজ শুভ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এক কর্মচারীর পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ম্যাংগো লাভারের কর্মচারী আশিকের সঙ্গে তার বড় ভাই রাসেলের মারামারির ঘটনা ঘটে। তাদের বাড়ি নওহাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ইকুঁড়ি এলাকায়। পরে মীমাংসার জন্য সেখানে যান প্রতিবেশী মাসুদ পারভেজ শুভ। অভিযোগ উঠেছে, মারামারির জেরে আশিকের নেতৃত্বে ‘ম্যাংগো লাভারে’ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
মাসুদ পারভেজ শুভ বলেন, দুই পক্ষের জড়ো হওয়ার খবরে তিনি সেখানে যান। নিচতলায় ওয়ালটনের বিক্রয়কেন্দ্র, তৃতীয় তলায় ভবন মালিক আলী ইমাম জুয়েল বসবাস করেন। তিনি ভবনের নিচে লোকজনকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরায় বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যাবে।
নৈশপ্রহরী কাজী হাতেম বলেন, ৩০ থেকে ৩৫ জন ওপরে উঠে হামলা, ভাঙচুর ও মারধর করে। তাদের মধ্যে মাসুদ পারভেজ শুভও ছিলেন। হামলায় দুই কর্মচারী সাকিব ও তানিম আহত হন। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, সাকিব ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে এবং তানিম ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। উভয়ের কারও আঘাত গুরুতর নয় এবং তারা আশঙ্কামুক্ত হওয়ায় দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
শুক্রবার দুপুরে ‘ম্যাংগো লাভারে’র মালিক মুরাদ পারভেজ বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ বাক্স থেকে ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট এবং আড়াই লাখ টাকার আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি আত্মগোপনে করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মাসুদ পারভেজ শুভ এই অপকর্মে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।
এদিকে রাতেই পবা থানার টহলে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) আসিব নাসিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, সেখানে দুটি ল্যাপটপ তারের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে ধস্তাধস্তি ও মারামারির সময় এসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনা পরিকল্পিত মনে হয়নি।
ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করলে ওই ভবনটির মালিক জানান, প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে ক্যামেরায় ফুটেজ সংরক্ষিত হয়নি।