‘কালো জাদু’ করে বেশ ‘সুনাম’ অর্জন করেছেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপেও নাকি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনকে ‘বোতলবন্দি’ করে ফেলেছিলেন। ঘানার সেই স্বঘোষিত ‘তান্ত্রিক’ এবার এমন এক দাবি করলেন, যা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার রোনালদোভক্তের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলতে বাধ্য। নানা কোয়াকু বনসাম, ঘানার ওই বিখ্যাত ওঝা বলছেন, ‘এবারের বিশ্বকাপ রোনালদোর।’ অধরা মাধুরী ছুঁয়ে ফেলতে আর অপেক্ষা করতে হবে না বিশ্ব ফুটবলে সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকাকে।
ব্রিটিশ ও আফ্রিকান কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোয়াকু বনসাম বলেন, ‘এই বিশ্বকাপ রোনালদোর। আমি দেখে নিয়েছি ট্রফিটা ওর হাতেই উঠছে।’
২০১৪ সালের বিশ্বকাপের আগে প্রথম আলোচনায় আসেন এই স্বঘোষিত তান্ত্রিক। সে সময় পর্তুগাল ও ঘানা একই গ্রুপে থাকায় তিনি দাবি করেছিলেন, ‘কালো জাদু’ করে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে বিপাকে ফেলেছেন। আর সত্যিই সে বিশ্বকাপে বেশ কঠিন সময় কাটাতে হয় রোনালদোকে। ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থাকা সত্ত্বেও নিজের দেশকে গ্রুপের গণ্ডি পেরিয়ে নকআউটে তুলতে পারেননি ক্রিস্টিয়ানো। নিজে মোটে একটি গোল পান। হাঁটুর চোটও ভোগায় তাকে। সেসময় ঘানার ওই ওঝা বেশ পরিচিত হয়ে যান। এরপর থেকেই নানা কোয়াকু বনসামের নাম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচিত হতে থাকে।
নিজের দাবি অনুযায়ী, ঘানার প্রত্যন্ত এক গ্রামের ‘কোফি অ্যান্ড কোফি’ আশ্রম থেকে তিনি অলৌকিক শক্তি অর্জন করেছেন এবং সেই শক্তির জোরেই নাকি তিনি ঝাড়ফুঁক করে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ক্ষতি করতে পারেন। যদিও তার এসব দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক বা বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ কখনো উপস্থাপিত হয়নি।
চলতি বিশ্বকাপেও তিনি দাবি করেছেন, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেনকে ‘মন্ত্রবলে আটকে’ রেখেছিলেন। এবার অবশ্য তার ভবিষ্যদ্বাণী পর্তুগাল ও রোনালদোকে ঘিরেই।
কোয়াকু বলেন, ‘আধ্যাত্মিক জগতে ইতিমধ্যেই পর্তুগাল বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে। আর আমি সেটা দেখেও ফেলেছি। রোনালদোর অপেক্ষা এবার শেষ হতে চলেছে।’
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। তাই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তারকা এবার শিরোপার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন কি না, সেদিকেই নজর ফুটবলপ্রেমীদের। কোয়াকুর এই ভবিষ্যদ্বাণী যদি রোনালদো ভক্তরা শোনেন, তাহলে হয়তো বলবেন, কোয়াকুর মুখে ফুলচন্দন পড়ুক।