সংসদে আমান উল্লাহ আমান

লন্ডনের আদলে শিক্ষা ও দরিদ্রবান্ধব বাজেট, এটি স্মরণকালের ইতিহাস

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে স্মরণকালের ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবনের অভিজ্ঞতা ও লন্ডনের শিক্ষা ব্যবস্থার আদলে বাংলাদেশের বর্তমান বাজেট সাজিয়েছেন।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।

সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে আমি সংসদে বহু বাজেট দেখেছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যে প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন, তা ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। এটি একটি মানবিক ও দরিদ্রবান্ধব বাজেট।

শিক্ষা খাতের বরাদ্দ নিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষায় এক লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট দেওয়া হয়েছে। লন্ডনের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য ব্যাগ, জুতা, পোশাক ও মধ্যাহ্নভোজের যে ব্যবস্থা আমি দেখেছিলাম, আজ এই বাজেটে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেই একই ব্যবস্থা চালু করেছেন। দীর্ঘ ১৮ বছর বিদেশে থাকাকালীন তার যে উন্নত চিন্তা ও চেতনা, তার প্রতিফলন ঘটেছে এই বাজেটে।

বাজেটে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, চাল, ডাল, আটা, তেল, লবণসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কর কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে উল্লেখ করে আমান বলেন, হার্টের রিং পরাতে আগে যেখানে এক লাখ ১০ হাজার টাকা লাগতো, তা এখন কমিয়ে ৫৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

কৃষি খাতে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্তের জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এছাড়া, ১৯৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক খনন করা বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর সংযোগস্থলের ১৭ কিলোমিটার খালটি পুনরায় সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আমান উল্লাহ আমান।

আলোচনা চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মমত্ববোধের একটি স্মৃতিচারণ করেন আমান উল্লাহ আমান। তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় আমরা যখন কারাগারে ছিলাম, তখন প্রচণ্ড শীতের এক রাতে এক সেবক পানি নিয়ে আসার সময় শীতে কাঁপছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন কারাবন্দি) তারেক রহমান তৎক্ষণাৎ নিজের গায়ের জ্যাকেটটি খুলে ওই দরিদ্র ছেলেটিকে পরিয়ে দিয়েছিলেন। যার হৃদয়ে গরীবের জন্য এমন মমতা, তার হাতেই দেশ নিরাপদ।