বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘানার ম্যাচে ‘কালো জাদু’র দাবি করে আলোচনায় আসা ঘানার স্বঘোষিত তান্ত্রিক ‘নানা কিয়াঙ্কু বোন্সামকে’ নিয়ে সরগরম ক্রীড়াঙ্গন। এমন আলোচনার মধ্যেই এবার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার একটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিরল ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। তবে বিশ্বকাপের কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়; পড়ালেখায় মনোযোগ না বসায় ‘কালো জাদুকে’ দায়ী করেছেন তারা।
এ নিয়ে রীতিমতো ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ‘কালো জাদুর’ (ব্ল্যাক ম্যাজিক) বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। এই ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সকালে কালুখালী মধুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা হঠাৎ করেই ক্লাস বর্জন করে স্কুলের সামনের প্রধান সড়কে এই কর্মসূচি পালন করেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলায় এই প্রথম কোনো বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীদের অভিনব এক কারণে ক্লাস বন্ধ করে রাজপথে নামতে দেখা গেল। কোনো যৌক্তিক দাবি বা স্থানীয় সমস্যার প্রতিবাদে নয়। খোদ ‘কালো জাদু’র (ব্ল্যাক ম্যাজিক) বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কালুখালী মধুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এমন অলৌকিক ও অবৈজ্ঞানিক বিষয়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
তবে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের দাবি, এলাকায় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশেপাশে এক শ্রেণির মানুষ কুসংস্কার ও কালো জাদুর চর্চা করে পরিবেশ বিনষ্ট করছে, যার প্রভাব পড়ছে তাদের ওপরও। এতে তাদের পড়ালেখায় মন বসছে না।
এদিকে স্কুলের শত শত শিক্ষার্থী ক্লাস বন্ধ করে রাস্তায় নেমে পড়লেও এই মানববন্ধনের বিষয়ে বিন্দুমাত্র আভাস পাননি বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মশিয়ার রহমান। পুরো ঘটনাকে নিজের ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মশিয়ার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
শিক্ষার্থীরা ক্লাস বন্ধ করে বাইরে মানববন্ধন করছে, অথচ আমি প্রধান শিক্ষক হয়েও বিষয়টি আগে থেকে কিছুই জানতাম না। শিক্ষার্থীরা এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নিল আর আমরা শিক্ষকরা অন্ধকারে থাকলাম, এটা নিশ্চিতভাবেই আমার ব্যর্থতা। আমি এই দায় এড়াতে পারি না।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীরা বলছে কালো জাদুর কারণে পড়ালেখায় ব্যাঘাত সৃষ্টি, পড়ালেখায় মন না বসছে না তাদের। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য দ্রুতই একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং কেন শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুম ছেড়ে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এমন কর্মসূচি দিল, তা খতিয়ে দেখা হবে।