ইরান ও জিসিসি দেশগুলোর উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ ইরাকের

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলো এবং ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরাক।

রোববার (২৮ জুন) বাগদাদে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরাক মার্কিন-ইসরাইয়েলের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। যুদ্ধের সময় ইরাককে দ্বিতীয় রণাঙ্গনে পরিণত করা হয়েছিল বলে মনে করা হয়। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। ইরাক তার জাতীয় রাজস্বের ৯৫ শতাংশেরও বেশি আয় করে এই প্রণালী দিয়ে রপ্তানি করা তেলের ওপর।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বর্তমানে বাগদাদ সফরে রয়েছেন। এ সফরে তিনি ইরাকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। সফরের অংশ হিসেবে আগামী জুলাই মাসের শুরুতে মধ্য ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় প্রয়াত ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার আয়োজনও রয়েছে। এ দুই প্রদেশ শিয়া মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান।

এই সফর এমন একটি স্পর্শকাতর সময়ে হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) খুবই নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সমঝোতার শর্তাবলী মেনে চলতে হবে, বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও শত্রুতা বন্ধের বিষয়টি।

তিনি দক্ষিণ ইরানের সামরিক ও বন্দর স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বারবার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

ইরাকের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বৈঠকে ইরান-মার্কিন সমঝোতা স্মারক, ইরানের কাছে ইরাকের ঋণ পরিশোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ইরাকের ভূখণ্ডে ইরান-বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বন্ধের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এই মধ্যস্থতার প্রস্তাব অঞ্চলের বর্তমান উত্তেজনা কমাতে ইরাকের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।