পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পরও স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও মাস না পেরোতেই আবারও একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
গলাচিপা পৌর এলাকার সাংবাদিক গনি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেরিন সাগর জানান, শনিবার বিদ্যালয়ে রুটি সরবরাহের সময় খোলা কয়েকটি প্যাকেটে মেয়াদ ‘২৯ জুন ২০২৬ পর্যন্ত’ উল্লেখ থাকায় তিনি তা গ্রহণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ শুরু করেন। পরে কার্টনের ভেতরের রুটি বের করতে গিয়ে দেখতে পান, বেশ কয়েকটি প্যাকেটে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ‘২৬ জুন ২০২৬’ লেখা রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বিতরণ বন্ধ করে বিষয়টি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানান। পরে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে জানানো হলে চালক এসে রুটিগুলো ফেরত নিয়ে যান। তবে পরদিন পর্যন্ত নতুন রুটি সরবরাহ করা হয়নি।
ডাকুয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সালমা বেগম বলেন,
আমাদের স্কুলে দুই দিনের জন্য ৩৪৪টি রুটি দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪৪টি রুটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ রুটিগুলো আলাদা করে রাখা হলেও এখনো সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়নি এবং নতুন রুটিও দেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে স্কুল ফিডিংয়ের রুটি সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পটুয়াখালী জেলা ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন বলেন, তারিখের সিল দেওয়ার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে ২৯ জুনের পরিবর্তে ২৬ জুন মুদ্রিত হয়েছে। এটি প্রিন্টিংজনিত ভুল। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, উপজেলায় ১৯৬টি বিদ্যালয়ের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর কাছে খাবার সরবরাহ করতে হয়। পরে এ বিষয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, একই চালানের কিছু রুটিতে উৎপাদনের তারিখ ২৫ জুন এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ২৬ জুন, আবার কিছু রুটিতে মেয়াদ ২৯ জুন উল্লেখ রয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিষয়টিকে প্রিন্টিংজনিত ভুল বলে দাবি করেছে। তবে ২৬ জুন মেয়াদ উল্লেখ থাকা সব রুটি বিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব রুটি অপসারণ না করা হলে সংশ্লিষ্ট বিল স্থগিত রাখা হবে এবং কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগেও একই ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। লিখিতভাবে ভবিষ্যতে এমন ভুল না করার আশ্বাস দেওয়া হলেও আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।