নৌকা চুরির অভিযোগে যুবকের দুই চোখ উপড়ে ফেলল তারা

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নে একটি ছোট নৌকা চুরির অভিযোগে এক যুবকের দুই চোখ উপড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। পাশবিক এই নির্যাতনের শিকার ওই যুবক বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নির্মম এই ঘটনার শিকার যুবকের নাম খালেদ আহমদ (২০)। তিনি তোয়াকুল ইউনিয়নের লাকী গ্রামের বাসিন্দা সোনাই মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাতে তোয়াকুল ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাক আহমদের বাড়ির পুকুর থেকে একটি ছোট নৌকা নিখোঁজ বা চুরি হয়। এই চুরির ঘটনার সূত্র ধরে পরদিন রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খালেদ আহমদ তোয়াকুল বাজারে দৈনন্দিন মাছ ও তরকারি কিনতে আসেন।

অভিযোগ রয়েছে, বাজারে তাকে দেখা মাত্রই শাহপুর গ্রামের মোস্তাক আহমদের নেতৃত্বে একদল লোক এসে সবার সামনে থেকে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর শাহপুর গ্রামের একটি নির্জন বাড়িতে তাকে আটকে রেখে চালানো হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় পাশবিক নির্যাতন। নির্যাতনের একপর্যায়ে তার দুটি চোখই উপড়ে ফেলে।

পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে খালেদের মা কুটনা বেগম তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ছুটে যান এবং তাকে হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করান।

এই লোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনার পেছনে স্থানীয়রা শাহপুর গ্রামের মোস্তাক আহমদ, পছাই মিয়া, সেলিম আহমদ, ফখরুল ইসলাম, ইলিয়াস মিয়া, তোতা মিয়া ও সিরাজ উদ্দিনের সরাসরি জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।

তবে ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় এই বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তোয়াকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য লোকমান আহমদ ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, খালেদকে বাজার থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ামাত্রই তিনি অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি তাদের অনুরোধ করেছিলেন যুবককে কোনো নির্যাতন না করে যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়, কিন্তু অভিযুক্তরা তার সেই অনুরোধ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেৎ

অন্যদিকে তোয়াকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লোকমান জানান, খালেদকে অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু ততক্ষণে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নৃশংস এই অপরাধের বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই থানা থেকে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই নাঈমুল ইসলামকে ফোর্সহ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।