ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর পর দেশে ফিরতে চাইলে সরকার তার প্রত্যাবর্তনে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো।
সোমবার পানামা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই অভিযোগ করেন। মাচাদো বলেন, এই হৃদয়বিদারক সময়ে ভেনেজুয়েলার বিপন্ন মানুষের পাশে থাকতে তিনি দেশে ফিরতে চান। কিন্তু তাকে প্রবেশে বাধা দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমে ভেনেজুয়েলার বাণিজ্যিক আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে আসলেও যারা তার প্রত্যাবর্তন সহজ করতে কাজ করছে, তাদেরকে এখন নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে নির্বাসনে থাকা মারিয়া কোরিনা মাচাদো সম্প্রতি নরওয়ের রাজধানী অসলোতে গিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেন। বর্তমানে ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের প্রধান মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ রয়েছে। তবে মানবিক সহায়তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরটি আংশিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর ভ্যালেন্সিয়া ও পূর্বাঞ্চলীয় শহর মারাকাইবোর বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে মাচাদো দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন।
ভেনেজুয়েলার এই জোড়া ভূমিকম্প ও নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা এমন এক সময়ে তৈরি হলো, যার মাত্র ছয় মাস আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে এক মার্কিন সামরিক অভিযানে আটক করা হয়। মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বর্তমানে ওয়াশিংটনের তীব্র চাপের মুখে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ।
এর আগে ২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাচাদোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট তাদের প্রার্থী এদমুন্দো গঞ্জালেস উরুতিয়ার বিজয়ের দাবি করলেও ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ উপেক্ষা করে মাদুরো নিজেকে পুনর্নির্বাচিত ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে গত মে মাসে পানামা থেকে মাচাদো ঘোষণা দেন যে, তিনি ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে রড্রিগেজ প্রশাসন এখন পর্যন্ত তার এই আলোচনার প্রস্তাব বা দেশে ফেরার দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি।