ভূমিকম্প বিধ্বস্ত ভেনিজুয়েলার ধ্বংসস্তূপে শুধু পচা লাশের গন্ধ। উদ্ধারকর্মীরা এখনো সেখানে প্রাণের সন্ধানে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন । এরই মধ্যে বেশ কয়েক জনকে ভবনের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধারে সক্ষম হয়েছেন তারা। তবে নিখোঁজদের বেঁচে থাকার আশা খুবই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এদিকে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে ।
গত বুধবার সন্ধ্যায় স্মরণকালের এ ভয়াবহ ভূমিকম্প দেশটিতে তাণ্ডব চালায়। এতে হাজার হাজার ভবন মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে। যেগুলোর নিচে এখনো চাপা পড়ে আছে বহু মানুষ। তবে সীমাবদ্ধতার কারণে প্রায় এক সপ্তাহ হতে চললেও তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জোড়া ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়া জানিয়েছে, ভবন ধসে পড়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর থেকেই লাশের দুর্গন্ধ বের হওয়া শুরু করে। এখন ভেঙে পড়া ভবনের চারপাশে দুর্গন্ধ তীব্র হচ্ছে। তবে যাদের প্রিয়জন সেসব ধ্বংসস্তূপে আছেন তারা এই দুর্গন্ধের পরও সরে যাননি। তারা ধ্বংসস্তূপের পাশেই অবস্থান করছেন। প্রিয়জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায় কি না, সেই আশায় আছেন। তাদের একজন হলেন মিরেল্লা হেরেরা । তিনি তার ছেলের ধসে পড়া বাড়ির পাশে শুরুর দিন থেকে অপেক্ষা করছেন। এই নারী বলেছেন, ‘এই অপেক্ষা পাগল হয়ে যাওয়ার মতো। আমি যতটা উদগ্রীব হয়ে আছি, নিজেকে সুস্থ রাখতে পানি খাচ্ছি, হাঁটছি আমি ভাবি তারা (আটকে পড়ারা) কেমন আছে। যদি তারা এখনো বেঁচে থাকে তাহলে তারাও হয়তো সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে।'
এদিকে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। নিখোঁজ রয়েছে হাজার হাজার মানুষ । বিভিন্ন এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজের বড় অংশই স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর নির্ভর করছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধার হওয়া এখন অনেকটাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে। ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি লা গুয়াইরা বন্দরের বাসিন্দারা তাদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের খুঁজে বের করতে শাবল, হাতুড়ি ও কোদাল ব্যবহার করছেন।
দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এটিকে ভেনিজুয়েলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এজন্য দেশবাসী সবার কাছে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ২৫ হাজারেরও বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ সদস্য ও সেনাসদস্য ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় কাজ করছেন। এখন প্রতিটি জীবন বাঁচানোই আমাদের জন্য বড় অর্জন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণে রংভিত্তিক সংকেত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এর ভিত্তিতেই ঠিক করা হবে কারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন । তিনি আরো বলেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ইতিমধ্যে অস্থায়ী আশ্রয়শিবির স্থাপন করা হচ্ছে ।