ভাঙ্গায় ছয় গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবকের মৃত্যু, পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কুমার নদীর দুই পাড়ের ছয় গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় ঢাকা-ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ের মুখে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা দক্ষিণপাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষটি চলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। এ সময় বাসস্ট্যান্ডের আশপাশের অন্তত ২০টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। 

নিহত যুবকের মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা আছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে, যদিও পুলিশ এখনো তার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী ও হাসামদিয়া গ্রামের কয়েকজন যুবকের মধ্যে পুরোনো বিরোধের জের ধরে প্রথমে হাতাহাতি শুরু হয়, যা পরে ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে দুই গ্রামের বাসিন্দারা টর্চলাইট জ্বালিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেন এবং মহাসড়কের দুই পাশ থেকে একে অপরের দিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চালাতে থাকেন। ধীরে ধীরে আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষও এতে যুক্ত হন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িতরা পুলিশের দিকেও ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

এই সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে গুরুতর জখম হন সুমন শেখ। তাকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিবারের ভাষ্যমতে, ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। সুমন শেখ ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জোবায়ের নাদিম জানান, আহত অবস্থায় যুবকটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার তথ্যমতে, ‘গুলিজাতীয় বস্তু চোয়াল ভেদ করে মাথার একপাশ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল, যা সম্ভবত শটগানের গুলি।’ এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাত ১২টার দিকে সুমনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তার স্বজন জিহাদ মুন্সি। তিনি জানান, ফরিদপুরের পরিবর্তে তারা সরাসরি ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান, তবে শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং পরে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সুমনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকা ফের উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এলাকাবাসী সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন, যার ফলে প্রায় তিন ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। পরে পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে দুই পক্ষ মহাসড়কে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল, এতে আমাদের কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

অন্যদিকে সুমনের মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেয়নি পুলিশ প্রশাসন। ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান দিপু বলেন, ‘ঢাকায় ছেলেটির মৃত্যুর খবর আমরা শুনেছি, তবে এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি।’