টাঙ্গাইলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে জামায়াত-এনসিপির সড়ক অবরোধ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এসময় জামায়াত ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সড়ক অবরোধ শেষে স্থানীয় জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই মির্জাপুরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস ঘেরাও করে স্বারকলিপি ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয়, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানানা, বুধবার বেলা ১১ দিকে মির্জাপুর উপজেলা ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। এরপর মিছিল নিয়ে বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস ঘেরাও করে রাখে। পরে বিক্ষোভকারীরা বিদ্যুতের ডিজিএম বরাবর স্বারকলিপি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধদের বোঝানোর চেষ্টা করেন।

এসময় উপজেলা জামায়াতের সহ-সভাপতি ওয়াজ উদ্দিন, উপজেলা জামায়াত ইসলামীর যুগ্ম সম্পাদক আবু আলমাছ মিয়া, এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনির, স্থানীয় জামায়াত নেতা আবুল কাশেমসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচির ব্যাপার জানতে চাইলে জামায়াত ইসলামীর যুগ্ম সম্পাদক আবু আলমাছ মিয়া বলেন,

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনো অবস্থায় মেনে নেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (স্মারকলিপির পর) থেকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেই এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে টাঙ্গাইল জেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল গ্রিডের অধীনে মির্জাপুর গ্রিডে বিদ্যুৎ চাহিদা ৮০-৯০ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন ১৫-২৫ মেগাওয়াট। বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে প্রতিদিন এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভয়াবহ লোডশেডিং এর ফলে উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলে ছোট, বড় ও মাঝারি মিলে শতাধিক মিল-কারখানায় উৎপাদনে বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোড়াই এলাকায় বিভিন্ন শিল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিলে উৎপাদন না থাকায় দেশি-বিদেশি বায়ারদের অর্ডার বাতিল হচ্ছে। এতে বিপুল অংকের টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এলাকার ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ দিন রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ মিলছে না।

টাঙ্গাইল জেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মোকলেছুর রহমান ও খালিদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, বুধবার ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা অফিসে এসে স্বারকলিপি দিয়েছেন। মির্জাপুর উপজেলায় দুটি জোনাল অফিসের অধীনে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার। বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের জন্য যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা সে তুলনায় ময়মনসিংহ জোন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকায় শিল্পাঞ্চল রয়েছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লোডশেডিং হচ্ছে বেশি। বিদ্যুতের লোড বাড়ানোর জন্য বিষয়টি সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এমপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 

মির্জাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ১১ দলীয় দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য  ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা ও পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস ঘেরাও করেন। মহাসড়কের অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

উল্লেখ্য, গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জামুর্কি, মহেড়া, বানাইল, আনাইতারা ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা দেলদুয়ার ও বাসাইল উপজেলার কয়েক শতাধিক পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকসহ শিক্ষার্থীরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবীতে জামুর্কি এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে। মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি জামুর্কি পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশন ও অফিস ঘোরাও করে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় বিক্ষুব্ধরা। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।