চট্টগ্রামে সরকারি গাছ কেটে বিক্ষোভ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে অজ্ঞাত ৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। বুধবার (১ জুলাই) সকালে সওজের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রাম নগরের আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর সমর্থকেরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ কেটে বিক্ষোভ করেন।
এর আগে একই আসনে আসলাম চৌধুরীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে তাঁর মনোনয়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী আপিল করেন। আপিল শুনানি শেষে আপিল বিভাগ মঙ্গলবার তাঁর আপিল মঞ্জুর করে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেন। ফলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না।
রায়ের খবর জানাজানি হওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা, ভাটিয়ারী, সলিমপুর, বাড়বকুণ্ড ও ছোট দারোগাহাট এলাকায় বিক্ষোভ করেন আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা। বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে সওজের দায়ের করা মামলায় বিএনপির দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে বাকি অভিযুক্তদের শনাক্তের কাজ চলছে।