১২ দিন ধরে অনশনে তরুণী

‘হয় সে আমাকে বিয়ে করবে, না হয় এই বাড়িতেই আমার মৃত্যু হবে’

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে অনশন করছেন এক তরুণী। গত ১৯ জুন থেকে উপজেলার পশ্চিম শিদলাই গ্রামের ওই বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন নুসরাত জাহান নামের এই তরুণী। অনশনরত তরুণীর ভাষ্য, ‘হয় সে আমাকে বিয়ে করবে, না হয় এই বাড়িতেই আমার মৃত্যু হবে।’

ভুক্তভোগী ওই তরুণীর বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ভূয়ারপাড়া গ্রামে। তিনি জানান, চার বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ব্রাহ্মণপাড়ার পশ্চিম শিদলাই গ্রামের আবু কালামের ছেলে আবু সাঈদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দীর্ঘদিনের এই পরিচয় একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ও দেখা-সাক্ষাৎ হতো। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবু সাঈদ তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।

নুসরাত জাহানের দাবি, ১২ দিন আগে বিয়ের কথা বলে আবু সাঈদ তাকে কুমিল্লার দেবিদ্বারের চড়বাকর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন থাকার পর সাইদ তাকে না জানিয়েই সেখান থেকে সটকে পড়েন। নিরুপায় হয়ে ঠিকানা সংগ্রহ করে গত ১৯ জুন সাঈদের গ্রামের বাড়িতে হাজির হন তিনি। তবে তরুণী আসার খবর পেয়ে আবু সাঈদ ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আকবর আলাউল বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি উভয় পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু ছেলের পরিবার বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা করা সম্ভব হয়নি।’

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি প্রেমিকের বাড়ি ছাড়তে রাজি হননি। আবু সাঈদের পরিবারের কাউকে না পাওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।