ইসরায়েলি হ্যাকিংয়ের শিকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবৈধ নজরদারি ও ফোন হ্যাকিং সংক্রান্ত বিশেষ তদন্ত কমিটির একজন সাবেক সদস্য নিজেই ইসরায়েলি স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) কানাডাভিত্তিক প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা ও নজরদারি সংস্থা সিটিজেন ল্যাব প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সিটিজেন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী গ্রিসের প্রখ্যাত টেলিভিশন সাংবাদিক থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য স্টেলিওস কৌলোগলোর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যে অন্তত তিনবার হ্যাক করা হয়েছিল। এই হ্যাকিংয়ের কাজে ইসরায়েলের কুখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপের তৈরি করা পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে।

যে সময় এই হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে, সে সময় কৌলোগলো ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পেগা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোতে বেআইনিভাবে ফোন হ্যাকিংয়ের ঘটনা তদন্তের জন্য ২০২২ সালে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটি মূলত পেগাসাস এবং এই জাতীয় ক্ষতিকর নজরদারি সফটওয়্যারের ব্যবহার খতিয়ে দেখে জানায় যে ব্লকের বিভিন্ন দেশের সরকার বৈধ বা অবৈধ নানা উপায়ে এই স্পাইওয়্যার ব্যবহার করেছে।

নিজের ফোন হ্যাক হওয়ার এই ঘটনায় গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে স্টেলিওস কৌলোগলো রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে পেগা কমিটির একজন সদস্য হিসেবে তিনি নিজেই পেগাসাসের মাধ্যমে নজরদারির শিকার হবেন, তা তার ভাবনার বাইরে ছিল। তিনি মন্তব্য করে বলেন, ‘আমি আশা করিনি যে হ্যাকাররা এতটা বেপরোয়া এবং দুঃসাহসী হয়ে উঠবে।’ এই বিষয়ে বক্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও এনএসও গ্রুপের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সাড়া বা জবাব পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য যে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে গত ২০২১ সালে মার্কিন সরকার এনএসও গ্রুপকে কালো তালিকাভুক্ত করে। এছাড়া জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস গত বছর এই এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে তাদের প্ল্যাটফর্ম অবৈধভাবে হ্যাক করার অভিযোগে ১৬ কোটি ৮০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা জিতেছিল, যদিও পরবর্তীতে সেই জরিমানার পরিমাণ বেশ কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছিল।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই