মেক্সিকোর সমর্থকদের শব্দদূষণ এড়াতে হোটেলের ঠিকানা গোপন রাখল ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে ইংল্যান্ড। সমর্থকদের সম্ভাব্য শব্দদূষণ এড়াতে দলের হোটেলের অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের জন্য ঘুম নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

শুক্রবার মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছে ম্যাচের আগে সেখানে দুই রাত অবস্থান করবে ইংল্যান্ড।

এর আগে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়া ইকুয়েডর অভিযোগ করেছিল, গভীর রাতে হোটেলের বাইরে জড়ো হয়ে মেক্সিকোর সমর্থকেরা লাউডস্পিকার, হর্ন ও মোটরসাইকেলের বিকট শব্দ করে খেলোয়াড়দের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় ফিফার কাছেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায় ইকুয়েডর।

ইংল্যান্ড নিজেদের হোটেলের অবস্থান প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই যেসব খেলোয়াড় ও স্টাফ নিজেদের কানে ব্যবহারের শব্দরোধক বা ঘুমের সহায়ক সরঞ্জাম সঙ্গে আনেননি, তাদের জন্য প্রাকৃতিক ঘুমের উপকরণ এবং সাদা শব্দ তৈরির বিশেষ যন্ত্রের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এবারের নকআউট পর্বে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচের আগের দিন স্বাগতিক শহরে আংশিক উন্মুক্ত অনুশীলন করতে হবে। সে কারণেই আগের মতো ম্যাচের আগের রাতে নয়, দুই দিন আগেই মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছাচ্ছে ইংল্যান্ড। ফলে এবার স্থানীয়ভাবেই অনুশীলন করবে দলটি।

সমর্থকদের সম্ভাব্য কোলাহলের পাশাপাশি মেক্সিকো সিটির ভৌগোলিক অবস্থানও ভাবাচ্ছে ইংল্যান্ডকে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২৪০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত হওয়ায় শহরটির বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা তুলনামূলক কম, যা ম্যাচে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের চারটি ম্যাচই উচ্চভূমিতে খেলেছে মেক্সিকো। এর মধ্যে তিনটি হয়েছে মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে, আর একটি গুয়াদালাহারায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৫৬৬ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত গুয়াদালাহারাতেও খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে স্বাগতিকদের। সাধারণত এমন উচ্চভূমির পরিবেশের সঙ্গে শরীর মানিয়ে নিতে খেলোয়াড়দের এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগে। তবে ইংল্যান্ডের হাতে সেই সুযোগ নেই।

এ নিয়ে ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেল বলেন, ‘উচ্চতা আমাদের জন্য বড় অসুবিধা হবে, কারণ এত অল্প সময়ে এর সঙ্গে শারীরিকভাবে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। চার দিনে এটি করা অসম্ভব। এটি এমন একটি সুবিধা, যা মেক্সিকোর থাকবে। আমরা আগে থেকেই বিষয়টি জানতাম। আমাদের শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে লড়তে হবে। আমি মনে করি, আমাদের দল সেই মানসিকতা নিয়েই প্রস্তুত।’