সমর্থকদের তোপ ও সরকারি তদন্ত থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে ‘পালালেন’ দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ

অনেক আশা নিয়ে এবারের বিশ্বকাপে খেলতে গিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। এতে সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েছে পুরো দল।

সমর্থকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ দলটির সদ্য সাবেক কোচ হং মিয়ুং-বোর ওপর। এমন পরিস্থিতিতে দেশে নিরাপত্তা অভাব বোধ করায় কোচ হং যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন বলে দাবি করেছে জংআং ডেইলি, চোসানবিজ, স্টার নিউজ কোরিয়াসহ দেশটির আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। 

ব্যর্থ বিশ্বকাপ অভিযান শেষে দেশে ফিরতেই তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন হং মিয়ুং-বো। সমর্থকরা বিমানবন্দরে জড়ো হয়ে ‘হং আউট’ স্লোগান দিতে থাকেন। ‘হংয়ের বেতন ফেরত নেওয়া হোক’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতেও কয়েকজনকে দেখা যায়। এমনকি কেউ কেউ তাকে গাড়িতে ওঠার আগ পর্যন্ত গালি দিতে থাকেন।

বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে হং মিয়ং-বো এরই মধ্যে পদত্যাগও করেছেন। তবু সমর্থকরা শান্ত না হওয়ায় দেশে ফেরার দুদিন পরেই যুক্তরাষ্ট্র চলে গেছেন।

স্টার নিউজ কোরিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া সব ম্যাচ খেলেছে মেক্সিকোয়। সেখান থেকেই সম্প্রতি তারা দেশে ফিরেছে। এরপর কয়েক দিন বিশ্রামে থাকার কথা থাকলেও বিপদ আঁচ করতে পেরে হং মিয়ুং-বো যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন, যেখানে তার পরিবার আগে থেকেই আছে। 

বিশ্বকাপে দলের এমন ভরাডুবি গুরুত্ব সহকারে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং। তার মতে, যোগ্যতার পরিবর্তে পক্ষপাতিত্ব ও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়াতেই এমন পরিণতি হয়েছে। দেশটির জাতীয় সংসদেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল অঙ্গনে অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক চাপ এবং সরকারি তদন্তের শুনানি এড়াতেই হং মিয়ুং-বো যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের অনেক কথাই বলতে চাই। তবে সেগুলো বলার জন্য উপযুক্ত সময় এখনো আসেনি।’ জাতীয় দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের গুঞ্জনও নাকচ করে দেন হং মিয়ুং-বো।

তবে সংবাদমাধ্যমের দাবি, হং মিয়ুং-বো লস অ্যাঞ্জেলেসে পরিবারের কাছে গেলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এই সফরকে ‘বিদেশে পালিয়ে যাওয়া’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলের জন্য ঘটনাটি ‘আন্তর্জাতিক লজ্জা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।