যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন ফিরে এসেছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র দেশজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে এক সমাবেশ অনুষ্ঠানে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি কমিউনিজম ক্যানসারের মতো বলে মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন ফিরে এসেছে।’

বিবিসির প্রতিবেদন অনযায়ী, শনিবার (৪ জুলাই) রাতে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন ট্রাম্প।

এসময় কমিউনিজমকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার জন্য হুমকি’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘কমিউনিজম ব্যর্থ মতবাদ। সব সময় এটি ব্যর্থই থাকবে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত। এ ব্যবস্থা কখনোই সফল হয়নি।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এ ধরনের হুমকি আমরা শুরুতেই থামাতে চাই। এটি ক্যানসারের মতো। তাই শুরুতেই দ্রুত এটি কেটে ফেলতে হবে।’

‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস প্রমাণ করে যে, এ দেশ কখনোই কাউকে নিজের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে দেবে না’, ভাষণে বলেন ট্রাম্প।

এরপর ট্রাম্প সংবিধানে উল্লেখ থাকা বেশ কিছু স্বাধীনতার কথা তার ভাষণে উল্লেখ করেন। 

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মতো নয়। এ দেশে আমাদের বাক্‌স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনের চোখে সমান বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে।’

তার এই বক্তব্যে আমেরিকান উদ্যোগের প্রশংসা, ‘কমিউনিস্টদের’ নিন্দা ও ক্ষমতায় থাকাকালে নিজের কৃতিত্বের কথা তুলে ধরে ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে আসা উৎফুল্ল জনতাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমেরিকানদের স্বপ্ন আবার ফিরে এসেছে।’

স্বাভাবিকের তুলনায় তার এ ভাষণ অনেকবেশি ইতিহাস ঘেঁষা হলেও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জনসভাগুলোতে তিনি যেসব কথা বলে থাকেন সেগুলোও বলেছেন।

তিনি ‘সেইভ আমেরিকা’ আইন পাস করার প্রত্যয় জানান। এই আইন পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের ভোট দিতে নাগরিকত্বের প্রমাণ ও আইডি কার্ড দেখাতে হবে। এই আইনে অসুস্থ না হলে বা সামরিক মোতায়েনের মতো অন্যান্য ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যাতিত ডাকযোগে ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ করা হবে।

চলতি সপ্তাহে এক রায়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ডাকযোগে ভোট দেওয়ার অধিকারকে সুরক্ষা দিয়েছে। এক রক্ষণশীল মনোভাবাপন্ন সুপ্রিম কোর্টের কাছে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি উল্লেখযোগ্য পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রায়ের পর হোয়াইট হাউজ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

ট্রাম্পের তার ভাষণে বারবার ‘কমিউনিস্ট প্রেতাত্মার’ কথা উল্লেখ করেন আর এটিকে এমন এক ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনা করেন যা ছেঁটে ফেলতে হবে।

বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্পের সমালোচকরা সম্ভবত দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের শীতল যুদ্ধের শত্রুদের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক বিরোধীদের গুলিয়ে ফেলার জন্য তাকে অভিযুক্ত করবেন।

৪০ মিনিট ধরে দেওয়া ভাষণের শেষে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা একটি নতুন ‘সুবর্ণ যুগের’ দ্বাপপ্রান্তে আছে আর এই ‘ভবিষ্যৎ স্বয়ং ঈশ্বর কর্তৃক নির্ধারিত’।

‘ঈশ্বর আমেরিকার মঙ্গল করুন’ বলে ভাষণ শেষ করেন তিনি।

এরপর ন্যাশনাল মলের এক প্রান্তে অবস্থিত কংগ্রেস ভবন মার্কিন ক্যাপিটল থেকে আতশবাজির প্রদর্শনী শুরু হয়। হাল্কা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে ৪০ মিনিট ধরে চলা এই আতশবাজির প্রদর্শনীতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী আলোকিত হয়ে ওঠে। ইতিহাসের বৃহত্তম আতশবাজির প্রদর্শনী হিসেবে গিনেস বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্য রয়েছে এ আয়োজনের।

এ সময় বিক্ষিপ্তভাবে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল আর তা আতশবাজি প্রদর্শনীর সঙ্গে ‘পাল্লা দিচ্ছিল’।