ফেনীর মুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া যুবক মো. সাকিবের (২৪) মরদেহ ২০ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে পরশুরামের সীমান্তবর্তী ফুলগাজী উপজেলার মধ্যম শ্রীচন্দ্রপুর গ্রাম সংলগ্ন নদী অংশ থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম অলকা জঙ্গলঘোনা গ্রামে মুহুরী নদীতে গোসল করার সময় তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান তিনি।
মো. সাকিব কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মোহাম্মদ আলী হোসেনের ছেলে। পরিবারের সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। শুক্রবার তিনি দক্ষিণ জঙ্গলঘোনা গ্রামে তার নানা মরহুম সুরুজ মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে স্থানীয় দুই নারীর সঙ্গে বাড়ির পাশে মুহুরী নদীতে গোসল করতে নামেন সাকিব। নদীর পানিতে পরপর দুটি ডুব দেওয়ার পর সাকিব আর ওপরে ওঠেননি। মায়া নামের এক নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। খবর পেয়ে পরশুরাম ফায়ার সার্ভিসের এক উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক উদ্ধার কাজ শুরু করে। তবে নদীতে তীব্র স্রোত ও ভাঙন থাকায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হয়। পরে বিশেষ ফায়ার সার্ভিসের এক ডুবুরি দল চট্টগ্রাম থেকে এসে অভিযানে যোগ দেয়।
তারা শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েও সাকিবের কোনো সন্ধান না পেয়ে সেদিনের মতো উদ্ধার কাজ স্থগিত ঘোষণা করে। অবশেষে রোববার সকাল ১০টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ভাটির দিকে ফুলগাজীর মধ্যম শ্রী চন্দ্রপুর গ্রামে মুহুরী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে স্বজনরা এসে নিখোঁজ সাকিবের মরদেহ হিসেবে এটি শনাক্ত করেন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও পুরো জঙ্গলঘোনা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরশুরাম ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মুস্তাফিজুর রহমান জানান, রোববার দুপুরে মুহুরী নদীর ফুলগাজীর মধ্যম শ্রী চন্দ্রপুর গ্রাম থেকে স্থানীয়রা মরদেহটি উদ্ধার করে বলে নিহতের স্বজনরা আমাদের জানিয়েছেন।