চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে প্রথম থেকে সরব ছিলেন চিত্রনায়িকা পলি। শিবা শানু ও জয় চৌধুরীর প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে শিবা শানু ও জয় চৌধুরী জয়ী হলেও হেরে গেছেন এই নায়িকা। নির্বাচনে হারার দুই দিন পর পলি অভিযোগ করলেন টাকার কাছে হেরে গেছেন তিনি।
পলির অভিযোগ, তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবীর চৌধুরী টাকা দিয়ে শিল্পীদের ভোট কিনেছেন। তার পেছনে কাজ করেছেন শিল্পী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিপুণ আক্তার।
রোববার (৫ জুলাই) সংবাদ সম্মেলন করে পলি জানান, তাকে হারাতে নিপুণ ভোটারদের কয়েক দফা টাকা দিয়েছেন।
এ সময় শিল্পী সমিতির কয়েকজন ভোটারের কয়েকটি কল রেকর্ড শোনান, যেখানে সেই ভোটারদের বলতে শোনা যায়, নিপুণ ১০৩ জন শিল্পীকে কয়েক দফা ডেকে টাকা দিয়েছেন।
পলি বলেন, ‘প্যানেল ঘোষণার আগে আবীরকে আমি চিনতাম না। শিল্পীদের কাছে যখন ভোট চাইতে গিয়েছি সে সময় তারাও আবীরকে চিনতে পারেনি। তাহলে সে কীভাবে এত ভোট পেল। পরে খবর পাই সে টাকা দিয়ে ভোট কিনেছে। আবীরকে জয়ী করার জন্য নিপুণ সরাসরি কাজ করেছে। আমাকে ফেল করানোর জন্য নিপুণ তার বাসায় ডেকে ড্যান্সার ও ফাইটারদের একটি গ্রুপকে তিন দফা টাকা দিয়েছে।’
নিজের প্যানেলের বিরুদ্ধেও প্রতারণার অভিযোগ করেন পলি। টাকার বিনিময়ে তার প্যানেলের নেতারাও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলে দাবি তার।
পলি বলেন, ‘প্যানেল চালানোর জন্য আমি জয় চৌধুরীকে ৩ লাখ টাকা দিয়েছি। পরে আরও টাকার কথা বললে আমি অপারগতা প্রকাশ করি। এর পর থেকেই প্যানেলের সবার আচরণ ভিন্ন হয়ে যায়। নির্বাচনের দিনেও জয় আমাকে জানায়, তার নিজের প্রায় ১০০ ভোট আছে। নির্বাচনের শেষ দিকে সেই ভোটাররা যখন ভোটকেন্দ্রে যায়, তখনো আশা ছিল জেতার। কিন্তু বাসায় যাওয়ার পর কেন্দ্রের ভেতর থেকে খবর পেলাম, আমার প্যানেল আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। প্যানেলের সবাই ভোট পেয়েছে শুধু আমি ছাড়া।’
দুঃখ প্রকাশ করে পলি আরও বলেন, ‘টাকার কাছে প্রকৃত শিল্পীরা হেরে যাচ্ছে। আমার প্রশ্ন একটাই, এমনটা আর কত দিন চলবে? এই যে কালোটাকার বিনিময়ে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হলো, সেটার জবাব চাই। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’