‘বিগত সরকারের ভুল নীতির কারণেই বিদ্যুতের সংকট’

বিগত সরকারের ভুল নীতি ও রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী বিদ্যুৎ চুক্তির কারণেই দেশে বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, আগের সরকারের করা চুক্তিগুলোর সীমাবদ্ধতা বর্তমান সরকারকে উত্তরাধিকারসূত্রে বহন করতে হচ্ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বিগত সরকারের ভুল নীতির কারণেই দেশের বিদ্যুৎ খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা সেই পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকারের মেয়াদ শেষে অন্তত ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।"

বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। রিজার্ভ সক্ষমতা হিসাবেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে ২৯ থেকে ৩০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা থাকায় অতিরিক্ত প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াটের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আগের সরকারের সময় হওয়া অনেক চুক্তিতে রাষ্ট্রের স্বার্থ যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় বা সার্বভৌম চুক্তি (সভারেন অ্যাগ্রিমেন্ট) একতরফাভাবে বাতিল করা বাস্তবে সম্ভব নয়। এজন্য আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যুতের ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণের চেষ্টা চলছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকটি ক্ষেত্রে দাম সংশোধন করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ বাতিলের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, আইনটি বাতিল হলেও এর আওতায় সম্পাদিত বিদ্যমান চুক্তিগুলো বহাল থাকবে। তবে ভবিষ্যতে এই আইনের অধীনে নতুন কোনো চুক্তি করা হবে না।

তিনি বলেন, বড় কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি বাতিল করলে তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদন ঘাটতি তৈরি হবে, যা পূরণে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে চলমান লোডশেডিংয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বলেন, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর অঞ্চলে জাতীয় গ্রিডের সীমাবদ্ধতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে কিছু এলাকায় বিকল্প হিসেবে তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে হচ্ছে।

তিনি জানান, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) গ্রিড উন্নয়নের কাজ করছে। কাজ শেষ হলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

প্রিপেইড মিটারে রিচার্জের সময় দীর্ঘ সংখ্যার কোড প্রদর্শনের বিষয়ে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, নতুন ট্যারিফ কার্যকরের ফলে প্রযুক্তিগত কারণে এ সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ভবিষ্যতে ট্যারিফ বা প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সময় যাতে একই ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে মিটার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আগেই সমন্বয় করা হয়েছে।