পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নাসির উদ্দিন মৃধা (৪০) নামে এক খামারিকে অপহরণ, নির্যাতন এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) দিয়েছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) পটুয়াখালীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন মৃধা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক নওরিন করিম মামলার অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ডিবিকে নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. বদলুল হক।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. বদলুল হক বাদল জানান, মামলায় বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এবং বাউফল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ পলাশসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া আরও সাত থেকে আটজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী নাসির উদ্দিন মৃধা উপজেলার চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক এবং গরুর খামারি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে পটুয়াখালী শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকা থেকে আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি নাসির উদ্দিনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বাউফলে আসে। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধর ও নির্যাতন করা হয় এবং তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন মৃধা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি নিজ এলাকায় নিরাপদে অবস্থান করতে পারছেন না। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তবে মামলায় প্রধান আসামি বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনা অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।