পবিত্র কুরআনের সুরা হুদে মহান আল্লাহ তাআলা প্রাচীন ছামুদ জাতির কাছে প্রেরিত নবী সালিহ (আ.)-এর দাওয়াত ও শিক্ষার কথা তুলে ধরেছেন। এই দাওয়াতের মূল সুর ছিল—একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, গুনাহ থেকে ক্ষমা চাওয়া এবং আন্তরিকভাবে তার দিকে ফিরে আসা।
সুরা হুদে ইরশাদ হয়েছে:
۞ وَإِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا ۚ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَـٰهٍ غَيْرُهُ ۖ هُوَ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَاسْتَعْمَرَكُمْ فِيهَا فَاسْتَغْفِرُوهُ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ ۚ إِنَّ رَبِّي قَرِيبٌ مُّجِيبٌ
আয়াতটির অনুবাদ হলো: ‘ছামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালিহকে নবী করে পাঠালাম। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর ইবাদত করো। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো মাবুদ নেই। তিনিই তোমাদেরকে ভূমি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে তোমাদেরকে বসবাস করিয়েছেন। সুতরাং তার কাছে নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তার অভিমুখী হও। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক (তোমাদের) নিকটবর্তী ও দোয়া কবুলকারী।’ ছামুদ জাতির পরিচয় ও ইতিহাস এর আগে সুরা আরাফের (৭:৭৩) টীকায় সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে।
এই আয়াতে হজরত সালিহ (আ.) তার সম্প্রদায়কে সর্বপ্রথম তাওহিদ বা একত্ববাদের দিকে আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ইবাদতের একমাত্র উপযুক্ত সত্তা হলেন আল্লাহ। কারণ তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, পৃথিবীতে তাদের বসবাসের সুব্যবস্থা করেছেন এবং জীবন পরিচালনার যাবতীয় উপকরণ দান করেছেন। এ কারণে বান্দার প্রধান দায়িত্ব হলো তার কাছে ফিরে আসা, নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং আন্তরিকভাবে তাওবা করা। এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয়, আল্লাহর অসীম রহমত থেকে কখনোই হতাশ হওয়া উচিত নয়। তিনি বান্দার অত্যন্ত নিকটবর্তী এবং আন্তরিকভাবে ডাকলে অবশ্যই সাড়া দেন।
তাওবার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার বিষয়টি প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিসেও চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নির্জন মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া উট ও প্রয়োজনীয় খাদ্য-সামগ্রী ফিরে পেয়ে একজন ব্যক্তি যতটা আনন্দিত হয়, বান্দার তাওবায় আল্লাহ তাআলা তার চেয়েও অধিক খুশি হন।
মানুষ ভুল করবে এবং গুনাহে লিপ্ত হবে, এটিই মানবীয় স্বভাব। তবে প্রকৃত সফল সেই ব্যক্তি, যে নিজের ভুল বুঝতে পেরে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। হজরত সালিহ (আ.)-এর এই কালজয়ী আহ্বান আজও সমান প্রাসঙ্গিক। আমরা যদি আন্তরিকভাবে ইস্তিগফার করি, তাওবা করি এবং আল্লাহর আনুগত্যের পথে ফিরে আসি, তবে তিনি অবশ্যই আমাদের ক্ষমা করবেন। কারণ তিনি বান্দার নিকটবর্তী, পরম দয়ালু এবং প্রার্থনা কবুলকারী।