শ্রীপুরে পোশাক কারখানায় শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, সংবাদ সংগ্রহে বাধা

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার একটি কারখানায় হঠাৎ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে টেপিরবাড়ি এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।  এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ সাংবাদিকদের।

গুরুতর অসুস্থ শ্রমিকরা হলেন—মোমেনা (২৮), মিনু (২৬), সনিয়া (২১), কাকলি (৩০), মারুফা (৩০), রায়তুন নাহার (২৭) ও মামুন (৩২)।

শ্রমিকরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ দেন কারখানার শ্রমিকেরা। ঘন্টা খানেক পর ৫ম তলার সুইং বিভাগে কর্মরত শ্রমিকরা ছুটাছুটি শুরু করে। এদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মাথা ঘোরানো, পেটে ব্যাথা, বমি বমি ভাব দেখা দেয়। এতে কারখানার অন্যান্য ফ্লোরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় তাদেরকে জরুরি ভিত্তিতে মাওনা চৌরাস্তার আল হেরাসহ বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শ্রমিক জেসমিন আক্তার বলেন, কিছুদিন আগে একই ফ্লোরে লিজা বেগম নামে এক শ্রমিক অসুস্থ অবস্থায় কাজ করতে গিয়ে মারা যান। এবারও ওই ফ্লোরেই একাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়েছেন। তবে কী কারণে এমন হচ্ছে, তা জানা যায়নি।

আরেক শ্রমিক মনিরা জানান, অসুস্থদের মধ্যে বমি, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতার উপসর্গ দেখা গেছে। একটি ফ্লোরের প্রায় সব শ্রমিকই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আলহেরা হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবুল হোসাইন জানান, তাদের হাসপাতালে শতাধিক শ্রমিক ভর্তি হয়েছেন। অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে বমি, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা গেছে। গুরুতর অসুস্থ সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ সাংবাদিকদের। সাংবাদিক সবুজ মিয়া অভিযোগ করেন, কারখানার সামনে ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় কর্তৃপক্ষ তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়।

শ্রীপুর থানার (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ উপস্থিত হয়। শ্রমিকদের বেশীর ভাগেরই আতংকে এমন হয়েছে।