গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় ১৪ বছর আগে আট বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। এদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন মাহমুদা খানম ও বিল্লাল শেখ।
এছাড়া দণ্ডিত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। আসামিদের পক্ষে ৮ জন সাফাই সাক্ষ্য দেন। মামলার আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ রায় দেওয়া হলিক
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৫ জুলাই শবে বরাতের রাতে কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণের শিকার হয় ইতালিপ্রবাসী রেজাউল ইসলামের ৮ বছরের ছেলে মাহফুজ। পরদিন মাহফুজের পরিবারকে ফোন করে ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ওই দিনই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় একটি মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ অপ্রাপ্ত বয়স্ক দুজনকে আটক করে আদালতে হাজির করলে তারা পারিবারিক শত্রুতার জেরে মাহফুজকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। গলায় ফাঁস দিয়ে তারা মাহফুজকে হত্যা করে বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে। দীর্ঘ ৪৫ দিন অপহরণের পর আটকে রেখে শিশুটিকে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। ২০ অগাস্ট ঈদের দিন রাতের বেলা শিশুটির লাশ বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় ২১ অগাস্ট স্বপ্না বেগম সম্পূরক এজাহার দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে একই বছরের ২০ নভেম্বর ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন কাশিয়ানী থানার এসআই নিজাম শিকদার। আর অপ্রাপ্ত বয়স্ক দুজনের বিরুদ্ধে দেয়া হয় দোষীপত্র।
মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মামলার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।