ভারী বর্ষণে ধসের আশঙ্কা

চট্টগ্রামে পাহাড় ছাড়তে মাইকিং, আশ্রয়কেন্দ্রে গেল মাত্র ২৭০ জন

চট্টগ্রামে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে হাজারো মানুষের বসবাস। জেলা প্রশাসন মাইকিং করেও বসবাসকারীদের সরাতে পারছে না। মরবে তবুও বসতি ছাড়বে না। জেলা প্রশাসন গত সোমবার থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরে যেতে মাইকিংসহ নানা প্রচারণা চালাচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন টানা ভারী বর্ষণ হচ্ছে চট্টগ্রামে। মাটি কাটার কারণে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু মৃত্যুর ঝুঁকি জেনেও বসতিগুলোতে মানুষ পরিবার নিয়ে বসবাস অব্যাহত রেখেছে।  উচ্ছেদ করলে দেখা যায় দিনে উচ্ছেদ করলে রাতে আবার বসতি গড়ে ওঠে। বছরের পর বছর যাবত্ চলছে পাহাড়ে বসতি নিয়ে লুকোচুরি খেলা। ছিন্নমূল এসব মানুষদের সমস্যা সমাধানে স্থায়ী কোনো সমাধানও হচ্ছে না।

নদীভাঙন ও ভূমিহীনতার কারণে ছিন্নমূলের সংখ্যা বেড়েছে। ভূমিহীন মানুষগুলো শহরে ও জেলার পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে বসতি গড়ে তুলে বসবাস করছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, স্থায়ী পুনর্বাসন করা না গেলে পাহাড়ে অবৈধ বসতি ঠেকানো যাবে না। ভূমিহীনদের মধ্যে সরকারি খাস জমি বণ্টনের মাধ্যমে অবৈধ বসতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্যদিকে ভূমিহীন এসব মানুষগুলোকে ব্যবহার করে কিছু প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সরকারি পাহাড় দখল করে রেখেছে।

গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি ছেড়ে নগরীর চারটি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ২৭০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু।  আশ্রয়কেন্দ্রে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে প্রথম ২০০৭ সালে ১১ জুন ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় ১২৭ জন মারা যায়। তার পর থেকে আরো একাধিকবার পাহাড় ধসে অসংখ্য নারী পুরুষ শিশু মারা গেছে। চট্টগ্রামে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একটি পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে। কমিটি বিভিন্ন সময় পাহাড়ে অবৈধ বসতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিলেও কার্যকর সুফল মিলছে না। পাহাড়ে অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে পানি, বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসনের করা তালিকা মতে চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় ১৭টি পাহাড়ের মধ্যে ১০টি ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ৭টি সরকারি বিভিন্ন সংস্থার। ইতিপূর্বে সরকারি ও বেসরকারি এসব পাহাড়ে ৮৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি চিহূিত করে তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে অবৈধ বসতি আরো কয়েক গুণ বেশি হবে। নগরীতে পাহাড়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রয়েছে লালখান বাজার, খুলশী, পাহাড়তলী, আকবর শাহ, বায়েজিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের পাহাড়ি এলাকায়। প্রতি বছর এসব এলাকায় বসতিগুলোতে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে।