ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই নিরাপত্তীরক্ষীকে উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথ। প্রতিদিনের মতো সেখানেই দায়িত্ব পালন করেন আব্দুস সালাম নামে এক সাধারণ সিকিউরিটি গার্ড। কিন্তু দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তার আরেকটি নীরব অভ্যাস ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় হাতে ধানের শীষ নিয়ে সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। সেই দৃশ্য নীরবে লক্ষ্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই নিরাপত্তীরক্ষীকে উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন রাজধানীর রমনা এলাকার গিয়ে আব্দুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার হাতে কিছু উপহারও তুলে দেন। এ সময় আব্দুস সালামের শারীরিক অবস্থা ও তার পরিবারের খোঁজখবরও নেন তিনি।

জানা যায়, আব্দুস সালামের বাড়ি পাবনার নগরবাড়ি ঘাট এলাকায়। অর্থাভাবে গত ৮ মাস ধরে রাজধানীর সাবেক রমনা থানার সামনের একটি বেসরকারি ব্যাংকের বুথে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করছেন। 

এর আগে, তিনি পেশায় একজন গাড়িচালকের কাজ করতেন। স্ট্রোক করার পর তিনি আর গাড়ি চালাতে পারেন না। তারপর থেকেই গাড়ির স্টিয়ারিং ছেড়ে এই সিকিউরিটি গার্ডের কাজ নেন তিনি। অসুস্থ শরীর নিয়েই বিরতিহীনভাবে প্রতিদিনই সকাল ৮ থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টা কাজ করেন তিনি। 

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তার সচিবালয়ের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় প্রতিদিন আব্দুস সালাম রমনা পুরাতন থানার কাছে বুথের সামনে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তার এই নীরব শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার প্রকাশ একসময় প্রধানমন্ত্রীরও দৃষ্টি গোচর হয়। পরে তার অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারির আতিকুর রহমান রুমনকে ওই ব্যক্তির খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য উপহার নিয়ে পাঠান প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন আব্দুস সালাম। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, 'তিনি কখনো কল্পনাও করেন নি, যে এটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হবে, আর প্রধানমন্ত্রীর তার জন্য উপহার পাঠাবেন।'

প্রধানমন্ত্রী আমার জানের টুকরা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবাকে ভালোবাসি, মাকে ভালোবাসি, প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। তিনি যখন এই পথ দিয়ে যান, আমি সব দিনই প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দেই, তিনিও আমাকে গাড়ির ভিতর থেকে সবদিনই হেসে সালাম দেন। হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর হাসি দেখলে আমার পরান জুড়িয়ে যায়। আজ আমার জীবনের সেরা দিন। সবচেয়ে আনন্দের দিন। প্রধানমন্ত্রী আমার মত ক্ষুদ্র মানুষকে উপহার পাঠিয়েছেন, এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে।

এদিকে একজন সাধারণ মানুষের নীরব ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক সাড়া স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশংসার জন্ম দিয়েছে। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন সাধারণ মানুষের আন্তরিক অনুভূতির এমন মূল্যায়ন নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত বলে জানান তারা।