পশ্চিমবঙ্গে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার প্রধান অভিযুক্ত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

বারুইপুরে ১২ বছরের এক শিশুকে অপহরণ, ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে বারুইপুর থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে প্রভাসকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় সে হঠাৎ পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায়। আত্মরক্ষায় পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস গুরুতর আহত হয় এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার বিবরণ অনুসারে, গত শনিবার বারুইপুর এলাকায় শিশুটিকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয় এবং লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রভাস মণ্ডলকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুসারে আনন্দ সরদার ও দিবাকর সরদার নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অর্থের লোভ দেখিয়ে আনন্দ সরদার প্রভাসকে দিয়ে শিশুটিকে অপহরণ করিয়েছিলেন বলে প্রভাস দাবি করেছিল। তবে আনন্দ সরদার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। পুলিশের মতে, এই নৃশংস ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল প্রভাস মণ্ডল।

এ ঘটনাকে অনেকে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনী প্রচারে শুভেন্দু বারবার বলেছিলেন, ধর্ষণ-খুনের মতো ঘটনা তিনি বরদাস্ত করবেন না। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উদাহরণ টেনে তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে অপরাধীদের ‘সকালে জমা নিয়ে বিকেলে খরচ’ করা হবে।

ঘটনার পর রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, এমন কড়া পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। আবার কেউ কেউ বলছেন, অতীতে কামদুনি বা আরজি করের মতো ঘটনায় যদি দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো এমন ঘটনা বারবার ঘটত না। স্থানীয় বাসিন্দারা এখন শিশু নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আরও সচেতন হয়ে উঠেছেন।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া