রেকর্ড বৃষ্টিতে তলিয়েছে ময়মনসিংহ, ঘরে ঢোকা পানিতে শিশুর মৃত্যু

রাতভর বৃষ্টিতে আবারও ডুবল ময়মনসিংহ। টানা সাড়ে আট ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। নগরীর ব্রাহ্মপল্লীতে ঘরে প্রবেশ করা বৃষ্টির পানিতে পড়ে ৮ মাসের আয়াস নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) ভোর রাত থেকে বৃষ্টির পানি জমে প্রধান সড়ক, হাসপাতাল, অলিগলি, বাজার, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার অনেক অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

নগরীর ব্রাহ্মপল্লী এলাকায় ঘরের মেঝেতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে আয়াস নামের ওই শিশুটির মৃত্যু হয়। মৃত আয়াস ওই এলাকার আবির মিয়ার ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টিতে আবির মিয়ার বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু আয়াস তার মায়ের সঙ্গে খাটে ঘুমাচ্ছিল। একপর্যায়ে সে খাট থেকে গড়িয়ে মেঝেতে জমে থাকা পানিতে পড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।

আয়াসের স্বজন রুমানা আক্তার বলেন, সারারাত বৃষ্টির কারণে ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। শিশুটি মায়ের সঙ্গে ঘুমাচ্ছিল। এসময় সে হঠাৎ পানিতে পড়ে যায় হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুজাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটিকে সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে বাড়ি চলে যান।

এদিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ বলেন,

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সাড়ে ৮ ঘণ্টায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি ময়মনসিংহ জেলায় এ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

এদিকে এক রাতের টানা বৃষ্টির প্রভাবে বুধবার সকালে ময়মনসিংহ নগরের প্রধান সড়ক, অলিগলি, আবাসিক এলাকা- সবখানেই জমে থাকা পানিতে স্থবির হয়ে পড়ে নগরজীবন। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও ঘরে ঢুকেছে ড্রেনের ময়লাযুক্ত পানি। কর্মজীবী মানুষ সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া ব্যাহত হয়েছে।

এদিন সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের চরপাড়া, ভাটিকাশর, কাচিঝুলি, বাসবাড়ি কলোনি, নয়াপাড়া, কপিখেতসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। বিভিন্ন সড়কে পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। কোথাও কোথাও ড্রেনের ময়লাযুক্ত পানি ঘরে প্রবেশ করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন মসিক প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন।

সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পলি অপসারণের কাজ চলছে এবং পানি দ্রুত নিষ্কাশনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

মসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজীদ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, খালের পানিপ্রবাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নগরবাসীকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খাল ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা না ফেললে পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক রাখা সহজ হবে।