চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক পাহাড়ধসের ঘটনায় অবৈধভাবে পাহাড় কেটে ঝুঁকি সৃষ্টি করা ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, কেবল আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় পাহাড়ধসের মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব নয়।
বুধবার (৮ জুলাই) নগরের পাঁচলাইশ থানার চশমা পাহাড় এলাকায় পাহাড়ধসে নিহত শিশুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে মেয়র দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহত শিশুর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মেয়র বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সিটি করপোরেশন পাহাড় কাটা রোধে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, পাহাড় কেটে প্রায় খাড়া ঢালে পরিণত করা হয়েছে, যা পুরো এলাকাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। অতীতে যারা অবৈধভাবে পাহাড় কেটেছেন এবং এ কাজে জড়িত ছিলেন, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়টি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় আবারও ধস নামতে পারে। তাই পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সিটি করপোরেশনের আরবান হেলথ সেন্টারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সেখানে আশ্রয় নিতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে সবাই যেন স্বেচ্ছায় আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
চসিক মেয়র জানান, গত ৪৫ বছরের মধ্যে চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার এবং টানা তিন দিনে প্রায় ৬৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। তিনি এ পরিস্থিতিকে মানবিক দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানুষের জীবন রক্ষা করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এজন্য রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকার পাশাপাশি জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জরুরি খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।