ঋণের চাপ ও পাওনাদারদের তাগাদা এড়াতে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন হাটহাজারীর মো. রাশেদুল আলম (৩৮)। দুই সহযোগীর সহায়তায় গলায় দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে মুক্তিপণ দাবির একটি ভিডিও ধারণ করে সেটিকে বাস্তব অপহরণের ঘটনা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
টানা দুই দিনের অনুসন্ধান ও অভিযানের পর রাঙ্গুনিয়া থেকে আত্মগোপনে থাকা রাশেদুলকে উদ্ধার করেছে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তার দুই সহযোগীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
অপহরণের নাটকের মূল হোতা রাশেদুল আলম হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ধলই গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে রাশেদুল আলম নিখোঁজ হয়েছেন উল্লেখ করে তার স্ত্রী রীনা আক্তার (৩২) হাটহাজারী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের দুই দিন পর তিনি থানায় এসে একটি ভিডিও প্রদর্শন করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রের মুখে রাশেদুলকে জিম্মি করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত শুরু করে। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, ভিডিও যাচাই, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালানো হয়। হাটহাজারী, রাউজানসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাশেদুলকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে কিছু ব্যক্তি পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ চালিয়ে যায়।
পরে প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাঙ্গুনিয়া থানার দক্ষিণ রাজানগর বাখরুঘাটা এলাকায় রাশেদুলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গত ৭ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাটহাজারী মডেল থানার একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা রাশেদুলকে উদ্ধার করে।
এ সময় তার দুই সহযোগী মো. ইমরান হোসেন (৩৫) ও মো. ইব্রাহিম ওরফে বাপ্পি (৩২)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদুল আলম পুলিশকে জানান, তিনি প্রকৃতপক্ষে অপহরণের শিকার হননি। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ায় পাওনাদারদের চাপ এড়াতে তিনি আত্মগোপনে যান। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দুই সহযোগীর সহায়তায় দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে অপহরণের দৃশ্য ধারণ করেন। মুক্তিপণ দাবির ভান করে ঘটনাটিকে বাস্তব অপহরণ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তির অবসান ঘটেছে। গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে সাজানো ঘটনা ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।