বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণে ভোলার চরফ্যাশনের মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় এবং বৃষ্টির পানি জমে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এর পাশাপাশি উত্তাল নদীর বড় বড় ঢেউ এসে বেড়িবাঁধে আঘাত করায় স্থানীয় উপকূলীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের একটানা বর্ষণে উপজেলার চরমানিকা, চরমাদ্রাজ, আসলামপুর, জাহানপুর, হাজারিগঞ্জ, নীলকমলের বাংলাবাজার, ঘোষেরহাট ও নজরুল নগরসহ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচর, কুকরি-মুকরি, চরপাতিলা এবং চর নিজাম এলাকা জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে এসব এলাকার মানুষের বসতভিটা, মাছের ঘের, ফসলি জমি, খাল-বিল এবং পুকুর-জলাশয়। বিভিন্ন ইউনিয়নের স্লুইসগেটগুলো বন্ধ থাকায় নিচু এলাকার বাড়িঘরে পানি আটকে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। এসব ঘরবাড়ির গবাদিপশু এবং হাঁস-মুরগির খামারও পানিতে ডুবে গেছে।
টানা এই বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণ থমকে গেছে। উপজেলার কৃষি অফিসার মো. নাজমুল হুদা জানান, ফসলি জমিতে দীর্ঘক্ষণ পানি জমে থাকায় ১ হাজার ২১০ হেক্টর জমির শাকসবজি এবং ১৭০ হেক্টর জমির আমন ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার জয়ন্ত কুমার অপু জানান, মৎস্য ঘের তলিয়ে ২১৮ হেক্টর জমির ৩ হাজার ৬৭১টি ছোট-বড় খামারের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার উপজেলার বেতুয়া থেকে হাজারীগঞ্জ পর্যন্ত বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসরত ছিন্নমূল ও অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ। এই সময় তিনি নিজে দুর্গত মানুষের কাছে গিয়ে তাদের দুর্দশার কথা শোনেন এবং পরবর্তীতে পরিবারগুলোকে আরও সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের এই খাদ্য সহায়তা পেয়ে অসহায় মানুষদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন এবং এই সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসরত ছিন্নমূল পরিবারগুলো কষ্টে থাকার খবর পেয়ে তিনি নিজে তাদের দুঃখ লাঘবের চেষ্টা করেছেন। টানা বর্ষার কারণে পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তিরা কোনো আয় করতে না পারায় কষ্টে দিন পার করছিলেন। এই কারণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত পরিবারগুলোকে চাল, ডাল, লবণ, চিনি, তেল এবং হলুদ, মরিচ ও জিরার গুঁড়া বিতরণ করা হয়েছে।