কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ২৩ মাস পর হত্যা মামলায় মো. আব্দুল্লাহ শিকদার (২৪) নামে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪। শনিবার (১১ জুলাই) র্যাব-৪ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এন রায় নিয়তি এ কথা জানান।
কে. এন. রায় নিয়তি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতিতে ৬ আগস্ট সকালে কারাগারে দাঙ্গা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন কারারক্ষীকে জিম্মি করে বন্দিরা বৈদ্যুতিক পিলার ভেঙে মই তৈরি করে সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে আব্দুল্লাহ শিকদারও ছিলেন। এ ঘটনায় কোনাবাড়ী থানায় মামলা হয়।
তিনি আরও বলেন, কারাগার থেকে পালানোর পর গ্রেপ্তার এড়াতে আব্দুল্লাহ বিভিন্ন ছদ্মবেশে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৪-এর একটি দল রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল্লাহ শিকদারকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ শিকদারকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ শিকদার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থানার একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে তিনি কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এন রায় নিয়তি আরও বলেন, ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর সুদের পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে আব্দুল্লাহ শিকদার ও তার দুই সহযোগী প্রতিবেশী লুৎফর রহমানকে হাতুড়ি ও কুড়াল দিয়ে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিচার শেষে আদালত আব্দুল্লাহ শিকদারসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে তাদের কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কারাগারে সৃষ্ট দাঙ্গা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার সুযোগে অন্য বন্দিদের সঙ্গে তিনিও পালিয়ে যান।