থানা থেকে পালানো সেই হাসিনা পুলিশের কবজায়

অবশেষে পুলিশের দ্রুত অভিযানে মাদারীপুর সদর থানার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১১ জুলাই) এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি আবুল কালম আজাদ।

তিনি জানান, শুক্রবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের জিয়ানগর শরিয়তপুর ৪ নম্বর গলির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হাসিনা বেগম মাদারীপুর পৌরসভার থানতলী এলাকার হবি হাওলাদারের মেয়ে ও সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা এলাকার আল-আমিনের স্ত্রী।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাসিনা বেগমকে আটক করে সদর মডেল থানার ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোকসেদুর রহমান। পরে তাকে মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সদর থানার মূল ভবনটি নির্মাণাধীন থাকায় অস্থায়ীভাবে ওসির বাসভবনের নিচতলায় থানার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সেখানে আসামিদের জন্য কোনো হাজতখানা না থাকায় বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে হাসিনাকে রাখা হয়। রাত দেড়টার দিকে সুযোগ বুঝে হাসিনা ওই কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়। 

পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি পালানোর ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) রমজান আলী সজল ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

এদিকে আসামি পালানোর ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সর্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার কোনো ঘটনা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরইমধ্যে ডিউটি অফিসার ও সেন্টিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।