নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা অঙ্গরাজ্যে দুই দিনব্যাপী সেনা অভিযানে ৩০০ জনেরও বেশি সশস্ত্র ডাকাত ও অপহরণকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
শনিবার (১১ জুলাই) জামফারা অঙ্গরাজ্যের তথ্য কমিশনার মাহমুদ মুহাম্মদ দান্তাওয়াসা এক বিবৃতিতে জানান, গুম্মি জেলায় ডাকাতদের একটি বড় ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী এই সাফল্য পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, অভিযানে ৩০০ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।
দেশটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু চুরি, অপহরণ এবং জঙ্গি হামলায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। এসব গোষ্ঠী কেবল লুটপাটই করে না, কৃষকদের জমিতে চাষ করতেও চাঁদা দাবি করে। অনেক সময় হামলা চালিয়ে ফসলও নষ্ট করে দেয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অপরাধী চক্র ও জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বেড়েছে। দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকারের সুযোগ নিয়ে তারা নিজেদের প্রভাব আরও বিস্তার করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, বুধবার রাতে প্রায় এক হাজার সশস্ত্র ডাকাত গবাদিপশু লুট করে নিয়ে যাওয়ার পর সেনাবাহিনী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা যৌথ অভিযান শুরু করে। রাতভর এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত চলা তীব্র সংঘর্ষে ৩০০ জনের বেশি ডাকাত নিহত হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা আবুবকর মুহাম্মদ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুসারে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগেও সেনাবাহিনী একই ঘাঁটিতে অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ডাকাতদের সংখ্যাধিক্যের কারণে সেবার পিছু হটতে বাধ্য হয়। জামফারা সরকার বলছে, আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে এই অভিযান একটি বড় মাইলফলক।
নাইজেরিয়া বর্তমানে একাধিক নিরাপত্তা সংকটে জর্জরিত। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম ও আইএসডব্লিউএপির মতো জঙ্গিগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় জঙ্গিবিরোধী অভিযানে কিছু সাফল্য পেয়েছে সরকার। গত মে মাসে যৌথ অভিযানে ইসলামিক স্টেটের এক শীর্ষ নেতাসহ প্রায় ২০০ জঙ্গি নিহত হয় বলে জানানো হয়।
এদিকে দারিদ্র্য ও আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতার কারণে সশস্ত্র ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এখন বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেনাবাহিনী শনিবার জানিয়েছে, জিহাদিদের হাত থেকে ৪০ জনের বেশি শিশুকে উদ্ধারের অভিযানে তাদেরও কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এই ঘটনা ঘটায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, কারণ এতদিন এলাকাটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে বিবেচিত হতো।
এই অভিযান নাইজেরিয়ার চলমান নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে সরকারের জন্য একটি ইতিবাচক খবর হলেও, দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা এখনও অনেক দূরের বিষয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।