স্পেনের আলমেরিয়ায় ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে শনিবার (১১ জুলাই) থেকে সরাসরি অভিযান শুরু করেছেন দমকলকর্মীরা। তবে আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে না আসায় পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে রাতভর আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আন্দালুসিয়া অঞ্চলের জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান আন্তোনিও সান্স শনিবার ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, দাবানল এখনো ‘জটিল’ অবস্থায় রয়েছে এবং কিছু এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। তবে দমকলকর্মীরা আগুনকে মহাসড়ক পেরিয়ে জনবহুল উপকূলীয় শহরগুলোর দিকে অগ্রসর হতে বাধা দিতে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি বলেন, এতক্ষণ আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল আগুনের বিস্তার ঠেকানো। আজ প্রথমবারের মতো আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করতে পারছি।
শুক্রবার প্রবল বাতাসের কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক মানুষ প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করলেও আগুনের মধ্যে আটকা পড়েন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লস গাইয়ার্দোসের উত্তরে বনাঞ্চলসংলগ্ন বেদার এলাকার কাছে এসব মরদেহ পাওয়া যায়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সবার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও এখনো তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। আলমেরিয়ার ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, পরিচয় নিশ্চিত করতে নমুনা মাদ্রিদে পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্বজনদের দেওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতদের বেশির ভাগই যুক্তরাজ্য ও বেলজিয়ামের নাগরিক। তাদের মধ্যে একজন স্প্যানিশ নাগরিকও রয়েছেন। এ ছাড়া আগুনে আহত হয়েছেন আটজন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর এবং সেভিলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা আপাতত উড়িয়ে দিয়েছেন কর্মকর্তারা। তারা বলেন, পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত সাতজন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে অনানুষ্ঠানিকভাবে ২৩ জন নিখোঁজের খবর পাওয়া গিয়েছিল।
দাবানলের কারণে শুক্রবার রাত পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বেদার ও আশপাশের কয়েকটি জনপদ থেকেও সতর্কতামূলকভাবে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আগুন নেভানোর কাজে ৫০০-এর বেশি দমকলকর্মী, জরুরি সেবা সদস্য ও সেনাসদস্য অংশ নিয়েছেন। তাদের সঙ্গে জাতীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্রিগেডের ১৯ জন বিশেষজ্ঞও কাজ করছেন।
জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, দাবানলের পশ্চিম অংশে সবচেয়ে বেশি তীব্রতা রয়েছে। সেখানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার ৬০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।
আন্তোনিও সান্স বলেন, রাতের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। আগুনের তীব্রতা কিছুটা কমেছে এবং নতুন করে কোনো জনবসতিতে সরাসরি হুমকি সৃষ্টি হয়নি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে কিছু বুঝে ওঠার সুযোগই ছিল না। আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক সরকারের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে মাত্র দুই ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
বেদার ও লস গাইয়ার্দোস এলাকার প্যারিশ পুরোহিত ভিক্টর ম্যানুয়েল ফের্নান্দেজ বলেন, তিনি পাশের একটি গ্রামে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে গিয়েছিলেন। তখন দূরে ধোঁয়া দেখা গেলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ মনে হয়নি।
তিনি বলেন, আমার ধারণা ছিল, দমকলকর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনবেন। কিন্তু প্রার্থনা শেষে বাইরে বেরিয়ে দেখি কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে গেছে। পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে দেখি আগুন সবকিছু গ্রাস করছে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
সূত্র: রয়টার্স